দুই যুগ ধরে ব্রিজের অপেক্ষা: হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ও বাঘু‌টিয়া ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদী। এই ধলেশ্বরীর কারণে উপজেলার খলসী, জিয়নপুর, বাঘুটিয়া, বাচামারা ও চরকাটারী- এই পাঁচ ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হ‌য়ে আছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান দুই প্রবেশদ্বার আমতলী ও আবুডাঙ্গা এলাকা। দীর্ঘ সময় পার হলেও ধলেশ্বরী নদীর উপর ব্রিজ নির্মিত হয়নি। ফলে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই এখন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসা।

সরেজমিন দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচর মাড়িয়ে তপ্ত রোদে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই শুষ্ক মৌসু‌মে পারাপারের জন্য ব‌্যবহৃত হয় কাঠের সাঁকো ত‌বে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে নদী যখন উত্তাল থাকে, তখন ভোগান্তি রূপ নেয় আতঙ্কে। জরাজীর্ণ খেয়া নৌকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় পারাপারের জন্য। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা রোগীরা।

স্থানীয়রা জানায়, কোনো গর্ভবতী মহিলা বা সংকটাপন্ন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে এই নদী পারাপারেই অনেক সময় মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়। সময় মতো যাতায়াত করতে না পারায় উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই অবহেলিত জনপদের মানুষ।
যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়ায় চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

আমতলী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেসের আলী বলেন, নদী পারাপারের ভোগান্তির কারণে ওপারের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চায় না। বিশেষ করে বর্ষাকালে উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে পলি বিধৌত চরাঞ্চলের জমি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে ফসলের বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু যাতায়াতের বেহাল দশায় সেই আশীর্বাদ যেন অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিজ না থাকায় কৃষি পণ্য বাজারে নিতে পারি না। সার পরিবহন ও ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে পরিবহন খরচই বেশি হয়ে যায়। ফলে আমরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। বারবার আশ্বাস পেলেও তা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ‌দৌলতপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল সা‌লেহীন  বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্রিজ দুটির জন্য বর্তমানে ফিজিবিলিটি টেস্ট (সম্ভাব্যতা যাচাই) চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পর্যায়ক্রমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।