ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের দুটি শহরে সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ মে) রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও পুরো রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, প্রথম বিস্ফোরণটি রাত ৮টার দিকে জলন্ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি কমপ্লেক্সের বাইরে ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের পর এক ব্যক্তিকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। এতে একটি স্কুটার, আশপাশের কয়েকটি দোকান এবং একটি ট্রাফিক সিগন্যাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর জানান, গেটের কাছে পার্ক করা একটি স্কুটারে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদন্তে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি (কেএলএ) নামে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জলন্ধরের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি পাঞ্জাবে সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি পরিকল্পিত হামলা—এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর কয়েক ঘণ্টা পর অমৃতসর শহরের একটি সেনা শিবিরের বাইরে আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের প্রাচীরে ধাতব টুকরো গেঁথে থাকতে দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে কোনো বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল পাতিয়ালায় একটি রেললাইনে বিস্ফোরণের চেষ্টা নস্যাৎ করা হয় এবং এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাকিস্তান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এদিকে রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা সুখবীর সিং বাদল সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিস্ফোরণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।