ফরাসি দূতাবাস এবং ‘গ্লোবাল পোর্ট সেফটি (GPS)’ প্রকল্পের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেছেন। আগমনের পর প্রতিনিধিদলকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ স্বাগত জানান।
সাক্ষাৎকালে সদস্য (হারবার ও মেরিন) প্রতিনিধিদলকে চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন: বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপজ্জনক পণ্য সঠিকভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আইএসপিএস জিরো অবজারভেশন এবং জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জনসহ প্রভৃতি চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদল ‘গ্লোবাল পোর্ট সেফটি (GPS)’ এর বিশ্বব্যাপী তাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে সদস্য (হারবার ও মেরিন) কে অবগত করেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে GPS প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বন্দরকে আরও নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত করে তোলা। এ প্রকল্পের আওতায় তারা অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ বা রাসায়নিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য আধুনিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আয়োজন ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ইত্যাদি কাজ করেন থাকেন। প্রতিনিধি দল তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপন সংক্রান্ত আর্ন্তজাতিক মানের প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশংসা করেন। প্রতিনিধিদলের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও GPS প্রকল্পের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উন্নয়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উক্ত পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভিনসেন্ট পেয়ারো, আঞ্চলিক সিভিল প্রোটেকশন অ্যাটাসে, ফ্রান্স দূতাবাস, সিঙ্গাপুর (বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং মিস ভিক্টোরিয়া ডুসার্দিয়ের, প্রজেক্ট অফিসার, এক্সপার্টিজ, চবক এর পরিচালক (পরিবহন), পরিচালক (নিরাপত্তা), চীফ পারসোনেল অফিসার, সহকারী হারবার মাস্টারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।