নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গতকাল বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে র্যাব-১৪ অধিনায়ক নয়মুল হাসান ময়মনসিংহ র্যাব কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী ও পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার পর ওই শিক্ষক মুঠোফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারিতে অবস্থান শনাক্তের পর গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাকে গতকালই সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিশুটির আত্মীয়স্বজন, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন।
পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা জানালে শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামি মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে গত মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও বক্তব্যতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এদিকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই শিশু শিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে বিভিন্ন হুমকি এবং নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নজরে আনা হলে র্যাব-১৪ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এ ছাড়া একটি ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যে তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়।’০