রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। এসব কিছুর মধ্যেই আলোচনায়, কে হবে মুখ্যমন্ত্রী? এই তালিকায় আছে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষের নাম।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরে তাকে পরাজিত করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী ও স্বপন দাশগুপ্তের মতো হেভিওয়েট নাম থাকলেও, বর্তমানে সবার নজর কেড়েছেন আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী অগ্নিমিত্রা পাল। তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি এখন বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। আলোচনা হচ্ছে ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেত্রী হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী!
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে আসা এই নামটির পেছনে বড় প্রভাবক অগ্নিমিত্রার দিল্লি ঘুরে আসা। গত মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়েছিলেন তিনি। দেখা করেছেন বিজেপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে। তবে এখন তিনি কলকাতায়।
এদিকে বিজেপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে অগ্নিমিত্রা পালও রয়েছেন এবং দল যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তিনি হতে পারেন আদর্শ প্রার্থী। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভার সাংসদ ছিলেন। এরপরই গুঞ্জণের ডালপালা দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে বেড়েছে।
আসানসোলের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা অগ্নিমিত্রার বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ। পরিবারের ইচ্ছা ছিল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। এমনকি ডেন্টিস্ট্রি পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন, কিন্তু গাইনোকোলজিস্ট হওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় আসানসোল থেকে বোটানিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট পড়ার সময় সকালে সময় কাটানোর জন্য ভর্তি হন বিরলা ইনস্টিটিউট অফ লিবারাল আর্টস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে। সেখান থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা করার পর নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিজাইনার।
ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে অগ্নিমিত্রা সবসময়ই বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁথা শিল্প ও কারুকার্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ২০০৭ সালের ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে যখন তিনি তার কাজ প্রদর্শন করেন, তখন র্যাম্পে তিনি একা হাঁটেননি। তার সঙ্গে ছিলেন দুই নারী কারুশিল্পী। শ্রীদেবী, হেমা মালিনী, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বলিউড তারকাদের পোশাক ডিজাইন করেছেন। এমনকি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও তার ডিজাইনের শাল ও কম্বল উপহার দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ইঙ্গা নামে নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিচালনা করছেন অগ্নিমিত্রা। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান পরে কলকাতার পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
অগ্নিমিত্রা রাজনীতিতে এসেছিলেন মূলত সমাজের জন্য কিছু করতে এবং গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে। নিজেকে ‘ভূমিপুত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে আসানসোলকে বিজেপির দুর্গে পরিণত করেছেন তিনি।