পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচে সাফল্য, বিদেশে রপ্তানি

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ এখন আর শুধু দেশের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এটি রপ্তানি হচ্ছে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। এ মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ও নাজিরপুর উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।

বিশেষ করে ‘ঘৃতকুমারী’ নামে পরিচিত সুগন্ধি বোম্বাই মরিচের বিদেশি বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ ও তীব্র ঝালের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এ মরিচের আলাদা কদর তৈরি হয়েছে। ফলে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করে পিরোজপুরের চাষিরা অর্জন করছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। 

জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পারিবারিক চাহিদা মেটাতে আঙিনায় বোম্বাই মরিচ চাষের প্রচলন রয়েছে। তবে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ও নাজিরপুর উপজেলায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। শুরুতে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য চাষ হলেও ধীরে ধীরে এটি লাভজনক কৃষিখাতে পরিণত হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহমুদকাঠি, কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। ২০১১-২০১২ সালে প্রথমবারের মতো এখান থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মাহমুদ হোসেন জানান, একটি বোম্বাই মরিচগাছ থেকে বছরে ৩০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগালে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায় এবং খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। মৌসুমে প্রতিটি মরিচ খুচরা বাজারে ৩ থেকে ১০ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হয়।

মরিচ ব্যবসায়ী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, চাষিদের কাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করে আকারভেদে আলাদা করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজার ও ঠাটারি বাজারে এসব মরিচ সরবরাহ করা হয়, যেখান থেকে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, বোম্বাই মরিচ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। একটি গাছ ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ফল দেয় এবং প্রতিটি গাছে ৪০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত মরিচ উৎপাদিত হয়। উৎপাদন আরও বাড়লে বিদেশি বাজারের সঙ্গে সরাসরি কৃষকদের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।

স্বল্প খরচে অধিক লাভ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকায় পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।