জেদ্দায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা

সৌদি আরবে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

‘বাংলাদেশি খাদ্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেদ্দা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি ও সৌদি আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। সভায় দেশীয় খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ডিং, বাজার সম্প্রসারণ এবং লজিস্টিকস-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল বলেন, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির পাশাপাশি এখন মূলধারার সৌদি গ্রাহকদের মধ্যেও বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ এবং আধুনিক বিপণন কৌশল গ্রহণ অপরিহার্য।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌদি বাংলা বিজনেস এন্ড ইনভেস্টর ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট ও আল-আমিন গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, বিডি ফুড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম শাজাহান সিরাজী, সৌদি বাংলা বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, ইনভেস্টর শেখ জাকির হোসেন, আল আবির ফিস এন্ড ফ্রোজেন কোম্পানির চেয়ারম্যান ইউসুফ মোহাম্মদ দুভাসি, আলী ফুড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী, সাইফুল ইসলাম মঞ্জু ম্যানেজিং পার্টনার ইউনিটি ফুড প্রোডাক্ট, সাইদুল ইসলাম সবুজ আল মদিনা ট্রেডিং কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সাইফুল ইসলাম সুমন রাধুনী ফুড এর সৌদি আরব ডিস্ট্রিবিউটর, প্রাণ আরএফএল প্রতিনিধি, টামকো ফুড এন্ড লজিস্টিক সার্ভিস কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান রাড়ি, ইউনিক সুপার সব এর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বেপারি, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ মনির হোসেন ম্যানেজিং পার্টনার ইউনিটি ফুড প্রোডাক্ট, সাংবাদিক এম ওয়াই আলাউদ্দিন, হানিছ সরকার উজ্জ্বল ও এ আর নোমান প্রমুখ।

সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বৃদ্ধি, যুক্তিসঙ্গত ভাড়ায় দ্রুত বিমানযোগে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করা এবং বন্দরে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।

কনসাল জেনারেল এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সৌদি আরবের Saudi Food and Drug Authority (SFDA)-এর নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং এবং ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কনস্যুলেট থেকে ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

সভায় ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গুণগত মান বজায় রেখে সরবরাহ চেইন আধুনিকায়ন করা গেলে সৌদি বাজারে বাংলাদেশি পণ্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য (FMCG), হিমায়িত মাছ এবং কনফেকশনারি পণ্য সৌদির বড় বড় সুপারশপে সরবরাহই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিদেশের মাটিতে দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে কনস্যুলেটের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এবং এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।