চড়া সবজির বাজারে বাড়ল ডিমের দাম

হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত ডিমের দাম বেড়েছে। এমন একসময় ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যখন কিনা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বেশিরভাগ সবজির দামই এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে কিনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে মানভেদে চালের দাম এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া দাম বাড়ানোর পর ভোজ্যতেলের সরবরাহকারীরা খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে করে ছোট ছোট মুদি দোকানগুলোয় বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রিতে অনীহা দেখা গেছে।

ঢাকার খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন হিসেবে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বাজারে যখন সবজির দাম বেড়ে যায়, তখন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ডিমের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়েনি এবং সোনালি মুরগির দাম আরও খানিকটা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগির দাম আরও খানিকটা কমে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, গত কিছু দিনের বৃষ্টির কারণে দেশের অনেক জেলা থেকেই সবজি সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে চাহিদা বেড়েছে ডিমের। বাড়তি চাহিদার চাপে দামও বাড়ছে।

 সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আব্দুর রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমেছে। যে কারণে দামও বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দুদিন ধরেই ডিমের দাম বাড়ছে। বাড়তে বাড়তে এখন সেটা ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। যখন সবজির চড়া দাম থাকে, তখন ডিমের চাহিদাও বেড়ে যায়।’ 

জানা গেছে, বাজারে মাঝারি মানের চিকন চাল ও মোটা চালের দাম খুচরা পর্যায়ে এক-দুই টাকা করে বেড়েছে। মাঝারি মানের প্রতি কেজি চাল মানভেদে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি মানের প্রতি কেজি চালের দাম ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে হাওরসহ সারা দেশে বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। নতুন চাল বাজারেও আসছে। ধানের দাম কম হওয়ায় চালের দামও কমার কথা। অথচ উল্টো বাড়ছে।

জানা গেছে, বাজারে দাম বৃদ্ধির পর সয়াবিন তেলের সরবরাহ খানিকটা বেড়েছে। তবে ছোট ছোট দোকানিরা তেল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, এক লিটার তেলে খুচরা দোকানির লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন সরবরাহকারীরা। এক লিটারের বোতল বিক্রি করলে সেখান থেকে ২ টাকা লাভ পান বিক্রেতারা। যে কারণে ছোট দোকানিরা তেল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সপ্তাহখানেক আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে চার টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা এবং বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে।

এদিকে আগে থেকেই চড়া সবজির বাজার। আলু ছাড়া বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে। এর মধ্যে বিভিন্ন জাতের বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১০০, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি জাতের লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচের দাম এখনো কম রয়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।