ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হজ। এতে সারা পৃথিবী থেকে মুসলমানরা একত্র হয়, যা ঐক্যের মহাসমাবেশ। এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রতিপালকের সর্বোচ্চ নৈকট্য অর্জন করে। হজ আদায়ের ক্ষেত্রে কায়িক ও আর্থিক সক্ষমতা দুটোই সমানভাবে প্রয়োজন। হজের উদ্দেশ্যে মক্কা গমনের পূর্বে একজন হাজিকে বেশ বড় একটা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাধারণত হজের জন্য প্রয়োজনীয় যে বিষয়াদি রয়েছে, যেমন ইহরাম, লাগেজ, ছাতা, ভিসা ও নিবন্ধন-সম্পর্কিত ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করতে হয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হচ্ছে আত্মিক। হজের পূর্বে নিজের নিয়ত পরিশুদ্ধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিয়া বা লোকদেখানো যেন উদ্দেশ্য না হয়, এ বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হজ আদায় করতে হবে।
সাধারণভাবেই হজ ফরজ হওয়ার সর্বপ্রথম শর্ত মুসলিম হওয়া। অতঃপর ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ বিবেকবান হতে হবে। পাগল ব্যক্তির ওপর হজ বাধ্যতামূলক নয়। তৃতীয় শর্ত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। স্বাধীন হওয়া, অর্থাৎ কারও দাস বা গোলাম না হওয়া হজের চতুর্থ শর্ত। সর্বশেষ শর্ত হচ্ছেÑ হজ আদায়ের জন্য ব্যক্তির দৈহিক ও আর্থিকভাবে পরিপূর্ণ সামর্থ্য অর্জন করা। এসব শর্তাবলি কোনো ব্যক্তির মধ্যে উপস্থিত থাকলেই তার ওপর হজ আদায় করা বাধ্যতামূলক।
হজ আদায় সম্পন্ন করতে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত কয়েকটি কাজ আঞ্জাম দিতে হয়। হজ আদায়ের ফরজগুলো হচ্ছে ইহরামের নিয়ত করা, ৯ জিলহজ জোহর থেকে ফজর পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সুযোগ মতো কাবাঘর সাতবার প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) করা।
হজে সাতটি ওয়াজিব রয়েছে। ১০ জিলহজ ভোর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান, সাফা ও মারওয়া সাঈ করা। ১০, ১১ ও ১২ তারিখ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা, তামাত্তু ও কিরান (হজের তিন প্রকারের দুটি, অন্যটি ইফরাদ) হজ শেষে দমে শোকর আদায় করা। মাথার চুল মুড়িয়ে ইহরামের কাপড় খোলা এবং সর্বশেষ বিদায়ী তাওয়াফ ও রাসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করা।
হাদিসের বর্ণনানুযায়ী, হজ আদায়কারী ব্যক্তির গুনাহ এমনভাবে মাফ করা হয় যে, সে যেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু। (সহিহ বুখারি) এ ছাড়াও হাজির দোয়া কবুল হওয়া এবং কবুল হজের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত, এ কথাও হাদিসে এসছে।
একজন হাজি হজ করার মাধ্যমে কঠিন এক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন, পরবর্তী সময় আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদায় করার প্রশিক্ষণ। অতি ক্ষুদ্র হুকুমগুলোও খুব গুরুত্ব সহকারে আদায় করতে হয়। নিষ্পাপ শিশুর মতো নতুন জীবনে আল্লাহর প্রতি নিজেকে পূর্ণভাবে সমর্পণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তারা। গুনাহে জর্জরিত ব্যক্তি নতুন উদ্যমে জীবন শুরুর সুযোগ পায়, অপরদিকে মুমিন বান্দা আল্লাহর নৈকট্যে আরও একধাপ অগ্রসর হয়।
হজ প্রতিটি মুসলিমের জীবনে একবারই ফরজ। সুতরাং হজের সামর্থ্য অর্জন হলে কালক্ষেপণ না করে যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করে নেওয়া উচিত। কেননা হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার নামান্তর। (তিরমিজি)
লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়