মানুষকে দুঃখ দেওয়ার পরিণতি ভালো নয়

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বারবার মানুষের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা নিসায় ৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের বিনা কারণে কষ্ট দেয়, তারা একটি বড় মিথ্যা ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে। এটি কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং আল্লাহর কাছেও এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার হাত ও জিহ্বার অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শুধু শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়াই নয়, কথার মাধ্যমে কাউকে দুঃখ দেওয়াও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

যে ব্যক্তি অন্যকে দুঃখ দেয়, তার পরিণতি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই ভয়াবহ হবে। যে মানুষকে কষ্ট দেয়, সে সমাজে একাকী হয়ে পড়ে। মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে, বিশ্বাস করে না এবং ভালোবাসে না। তার জীবন ধীরে ধীরে অশান্তিতে ভরে যায়। আর আখেরাতে পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দুনিয়ায় যাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, জুলুম করা হয়েছে, কেয়ামতের দিন সে জালেমের নেকি নিয়ে নেবে। নেকি শেষ হয়ে গেলে, মজলুমের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এটিকে হাদিসে দেউলিয়া হওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

ইসলাম কঠোরতার পাশাপাশি ক্ষমার দরজাও খোলা রেখেছে। যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দিয়েছে, সে যদি সত্যিকারের অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে সংযত থাকে, তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, যাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেও ক্ষমা নিতে হবে।

ইসলাম মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। অন্যের হৃদয়ে আঘাত করা, কাউকে অপমান করা বা দুঃখ দেওয়া ইমানের পরিপন্থী কাজ। একজন সত্যিকারের মুমিন সর্বদা চেষ্টা করে যেন তার কারণে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।