রেকর্ড ভেঙে শিখরে আরোহণের হিড়িক, এভারেস্টে এবার সর্বোচ্চ ৪৯২ পারমিট

রেকর্ড ভেঙে শিখরে আরোহণের হিড়িক পড়েছে এভারেস্টে। ফলে নেপাল এই বসন্ত মৌসুমে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক, ৪৯২টি অনুমতিপত্র (পারমিট) জারি করেছে

শুক্রবার (৮ মে) নেপালের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র হিমাল গৌতম এএফপিকে বলেন, সাগরমাথার (এভারেস্টের নেপালি নাম) জন্য আমরা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক পারমিট ইস্যু করেছি।

এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ডের পরিমাণ ছিল ২০২৩ সালে, যখন মহামারী-পরবর্তী সময়ে পাহাড়ে ওঠার হিড়িক পড়লে ৪৭৮টি পারমিট দেওয়া হয়েছিল।

যেহেতু এই পর্বতারোহীদের অধিকাংশ অন্তত একজন নেপালি গাইডের সহায়তায় এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করবেন, তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার আরোহী সামিটের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

গত মাসেই 'আইসফল ডক্টরস' নামে পরিচিত একদল অত্যন্ত দক্ষ পর্বতারোহী এভারেস্টে দড়ি এবং মই লাগানোর কাজ শুরু করেছেন, যাতে বসন্তের আরোহণ মৌসুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়। তবে অত্যন্ত বিপজ্জনক খুম্বু আইসফলের উপরে একটি 'সেরাক' (হিমবাহের বরফের বিশাল খণ্ড) তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের এই সীমিত সময়ের আরোহণ মৌসুমে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

গৌতম জানান যে, বিকল্প একটি পথ ব্যবহার করে ৭,৯০৬ মিটার (২৬,০০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত সাউথ কোল পর্যন্ত রুটটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

নেপালের অন্যতম বড় অভিযান আয়োজক সংস্থা 'সেভেন সামিট ট্রেক্স'-এর মিংমা শেরপা বলেন, পর্বতারোহীরা এখন বরাবরের মতো উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কাজ করছেন এবং আমরা একটি ভালো মৌসুমের আশা করছি।

তবে আরোহীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শিখরে পৌঁছানোর পথে যানজট এবং প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে—বিশেষ করে যদি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চূড়ায় ওঠার সময়সীমা (উইন্ডো) কমে যায়।

এর আগে ২০১৯ সালে এভারেস্টে আরোহীদের দীর্ঘ সারির কারণে দলগুলোকে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চরম ক্লান্তিতে ভোগেন। ওই বছর ১১ জন আরোহীর মৃত্যুর মধ্যে অন্তত চারজনের মৃত্যুর জন্য অতিরিক্ত ভিড় বা যানজটকে দায়ী করা হয়েছিল।

বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে ৮টিই নেপালে অবস্থিত। প্রতি বছর ভিড় করা বিদেশি পর্বতারোহীরা দেশটির আয়ের একটি বড় উৎস। এ বছর সরকার এভারেস্ট পারমিট থেকে মোট ৭১ লাখ মার্কিন ডলার রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।

সূত্র: দ্য ম্যানিলা টাইমস