প্রেমে রাজি না হওয়ায় কলেজছাত্রী অপহরণ, আটক ২

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভোলার চরফ্যাশন থেকে এক কলেজছাত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হলেও প্রধান আসামি পালিয়ে গেছে। 

এ ঘটনায় বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর মা সালমা আক্তার বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় চরফ্যাশন উপজেলার পাশ্ববর্তী দুলারহাট থানার বাসিন্দা মো. জাবেদকে (২২)। ২ নম্বর আসামি করা হয় তার বাবা মো. ছালাউদ্দিন মেম্বারকে। এছাড়া জাবেদের দুই সহযোগী হাসনাইন (২১) ও মেহেদী হাসান (২৬)-কে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কারিমা হাসানকে (১৭) প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৬ মে) বিকেলে বান্ধবীর জন্মদিনে যাওয়ার পথে দুলারহাট থানার বাজার মোড় থেকে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে স্পিডবোটে বরিশাল হয়ে প্রাইভেটকারে করে কুয়াকাটায় নেওয়া হয় এবং ‘রূপান্তর’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয়।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাতে মহিপুর থানা পুলিশ ও চরফ্যাশন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কুয়াকাটার ওই আবাসিক হোটেল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হাসনাইন ও মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। তবে প্রধান আসামি জাবেদ পালিয়ে যায়।

এরপর শুক্রবার (৮ মে) মামলাটির তদন্ত অগ্রগতিতে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাকে বিয়ের উদ্দেশ্যে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগীর মা সালমা আক্তার বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। আমি জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তদন্ত কর্মকর্তা চরফ্যাশন থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘৭ মে দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং দুই আসামিকে আটক করা হয়। ৮ মে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পাওয়া গেছে।’

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী ও আটক আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।