একাধিক বিয়েকে তামাশায় পরিণত করার বিষয়ে যা বললেন শায়খ আহমদুল্লাহ

একাধিক বিয়েকে তামাশা ও হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করার মতো ভূমিকায় যারা অবতীর্ণ হন তাদেরকে আল্লাহর কাঠগড়ার আসামি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন শায়খ আহমদুল্লাহ। 

সম্প্রতি ইউটিউবের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়খ আহমদুল্লাহ বলছেন, দ্বিতীয় বিয়ে করাকে ইসলাম পরিপূর্ণ সমর্থন করে কি না, এটা জানে না এমন মুসলমান খুব কম আছে। ইসলাম পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে করাকে অনুমোদন দিয়েছে। তবে শর্ত হলো, একাধিক বিয়ে করার পর একাধিক স্ত্রীর প্রতি সমতা বজায় রাখার সামর্থ্য সার্বিকভাবে থাকতে হবে।

প্রথমত একাধিক স্ত্রী লালন পালন করার শক্তি সামর্থ্য থাকতে হবে, সার্বিক সামর্থ্য থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত সামর্থ্য থাকলেই হবে না, ইনসাফ করার সামর্থ্য থাকতে হবে। আল্লাহ বলেছেন, ‘ফাইন খিফতুম আল্লা তা’দিলু ফাওয়াহিদা’। (সুরা নিসা ৩) অর্থাৎ যার এ আশঙ্কা হয় যে, না একাধিক স্ত্রী হয়ে গেলে একজনের প্রতি ঝুকে যাব, আরেকজনের খবর নেব না, আরেকজনের প্রতি বৈষম্য হয়ে যাবে, জুলুম হয়ে যাবে, বরণপোষণ দিতে গিয়ে একজনকে বাড়িয়ে দেব, আরেকজনকে দেব না, এরকম যদি আমার ভিতরে কোনো একটা দিকে ঝুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে, বৈষম্য করার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য একটির বেশি বিয়ে করা জায়েজ নেই। এটা হলো মৌলিক কথা।

এরপরে মোটাদাগে যে বিষয়টি আমরা সবাই জানি সেটা হলো, দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়গুলোকে হাস্যকর প্রমাণ করার জন্য, বিতর্কিত করার জন্য আমাদের অনেকের যে রকম ইমম্যাচিউর আচার-আচরণ এবং ভূমিকা, এটার যেমন দায় আছে, আবার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে সমাজে হেয় করার একটা অপচেষ্টা এ দেশে কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে করে যাচ্ছে, সেটাও আমরা জানি।

আজ থেকে আপনি ৩০-৪০ বছর আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা যদি দেখেন, একাধিক বিয়ের ঘটনা গ্রামে-গঞ্জে, শহরে অহরহ হয়েছে। অনেক বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দুনিয়াদার ব্যক্তি, সাধারণ শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে বা অনেক বেশি পরিমাণে ছিল, সেটা নিয়ে সমাজে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। এখন একাধিক বিয়ে করে একজন স্ত্রীকে নিয়ে পড়ে থাকা, আরেকজনের খোঁজখবর না নেওয়া, এরকম বৈষম্যমূলক অনাচার যে রকম হচ্ছে এটা যেমন সত্য, আবার এটাকে কালার করার জন্য তিলকে তাল বানিয়ে রংচং মেখে এটাকে প্রচার করার একটা অপচেষ্টাও আছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদেরকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অনেক সাধারণ মুসলমান আছেন প্রপাগান্ডার মধ্যে পা দিয়ে ফেলেন এবং অনেক সময় দেখা যায়, আমরা নিজেরা এগুলোর কারণে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হই।

তবে আমি আবারও বলছি, একাধিক বিয়েকে শুধুমাত্র ছেলে খেলা, তামাশা, শুধুমাত্র মনের খায়েশ পূরণ করার একটা অস্ত্র পরিণত করে দ্বীনকে, দ্বীনের বিধানকে, শরিয়ার বিধানকে যেন হাস্যকর বিষয় পরিণত না করি।

দেখুন, এ রকম বহু ফ্যামিলি আছে, আমি পার্সোনালি চিনি, এরকমও আছে যে, স্ত্রী কোনো কারণে স্বামীকে সঙ্গ দিতে পারছেন না, শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে, কত সমস্যা হয় মানুষের।

এখন রাস্তা দুটি। এক হলো, এতদিন যে মানুষটা পরম যত্নে আগলে রেখেছেন, সময় দিয়েছেন, সে মানুষটা এখন নানা অসুস্থতার কারণে তিনি অপারক হয়ে গেছেন। কিন্তু পুরুষ লোকটার তখনো পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সে সার্বিক সক্ষমতা রেখেছেন, তার সে প্রয়োজন আছে। 

এখন রাস্তা দুটি। হয় সে আরেক বিয়ে করবে। আর না হলে এই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তারপর বিয়ে করবে। রাস্তা দুটি। কারণ তার নিজের চরিত্রকে হেফাজত করতে হবে। তার চরিত্রকে হেফাজত না করে যেখানে সেখানে তার চরিত্রকে যে নষ্ট করে বেড়ায়, ধ্বংস করে বেড়ায়, এতে সমাজ ধ্বংস হবে, সে ধ্বংস হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সাংসারিক জীবনের সুখ থেকে বঞ্চিত হবে।

আল্লাহতায়ালা হারামে সেই সুখ রাখেননি, হালালের মধ্যে যে সুখ রেখেছেন। এটা থেকে সে বঞ্চিত হবে। তো এক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রী দেখা যায় স্বপ্রণোদিত হয়ে চান যে, স্বামীর এই ক্রাইসিসটা যেন দূর হয়, তার জন্য কোনো পজিটিভ উদ্যোগ নিই। স্ত্রী চান এ রকম। আরো বহু অপশন আছে, যে অপশনগুলোতে একাধিক বিয়ে করার দরকার হয়।

মনে রাখতে হবে, এটাকে ছেলে খেলায় পরিণত করা, হাস্যকর জিনিসে পরিণত করার মতো ভূমিকায় যারা অবতীর্ণ হন তাদেরকে আল্লাহর কাঠগড়ার আসামি হওয়া লাগতে পারে। সাবধান থাকা উচিত, যখন দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে, তখন আমি হেয়কারীদের হাতে কোনো অস্ত্র তুলে দিচ্ছি কি না, আমার দায়িত্ব জ্ঞানহীন কোনো মন্তব্য বা কাজ দ্বীনকে হাসির পাত্রে পরিণত করছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহর দ্বীনকে, দ্বীনের কোনো বিধানকে হাস্যকর করার ক্ষেত্রে আমার কোনো ভূমিকা সেখানে হয়েছে, তো সেটা কত বড় দায়ের ব্যাপার! আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তৌফিক দান করুন।

শ্রুতিলিখন: আতিকুর রহমান