ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া!

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

ইরানের জন্য ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির অবরোধ এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগরপথ ব্যবহার করছে তারা। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগর দুই দেশকে সংযুক্ত করেছে। এই জলপথ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে রাশিয়া ও ইরানের গোপন ও প্রকাশ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে এই কাস্পিয়ান সাগর।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে এই রুট ইরানকে ‘ব্যাপকভাবে সহায়তা’ করছে। 

তাদের দাবি, রাশিয়া থেকে ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ যদি এমন গতিতে সরবরাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে খুব দ্রুতই ইরান তাদের ড্রোন ভাণ্ডার পুনর্গঠন করতে পারবে। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের প্রায় ৬০% ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুদ্ধে তেহরান যে পরিমাণ ড্রোন ব্যবহার করেছে, তা মোট মজুদের থেকে অতি 'নগণ্য'। আরও তিন থেকে চার মাস টানা বিরতিহীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে ইরান বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

এনওয়াইটির তথ্যমতে, যেসব পণ্য সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো, সেগুলোর একটি অংশ এখন কাস্পিয়ান সাগর হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শস্য, পশুখাদ্য, সূর্যমুখী তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য।

প্যারিসের গবেষক অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, 'নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য কাস্পিয়ান সাগর আদর্শ জায়গা।'অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো লুক কফি বলেন, 'মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে কাস্পিয়ান অঞ্চল এক ধরনের ভূরাজনৈতিক ব্ল্যাক হোলের মতো; যেন এর অস্তিত্বই নেই। ইরান ও রাশিয়া মার্কিনিদের এই মতাদর্শেরই ফায়দা নিচ্ছে।' 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত