বিহারে ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতিগত স্টিকার নিষিদ্ধ

ভারতের বিহার রাজ্যে ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতিগত পরিচয় বহনকারী স্টিকার বা শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। বিহার পরিবহন দপ্তরের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন বা নম্বর প্লেটের নিচে ‘ব্রাহ্মণ’, ‘ক্ষত্রিয়’, ‘যাদব’সহ জাতিবাচক কোনো শব্দ বা স্টিকার লাগানো থাকলে গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা। এমনকি এই আইন ভাঙলে চালককে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত ক্যামেরা। বিহার পরিবহন দপ্তর জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে সব যানবাহন মালিককে গাড়ি থেকে এ ধরনের স্টিকার বা শব্দ সরিয়ে ফেলতে হবে। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় তা অপসারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালাবে পুলিশ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট ১৯৮৮-এর ১৭৭ ধারায় ৫০০ রুপি এবং ১৭৯ ধারায় সর্বোচ্চ ২ হাজার রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। এ নির্দেশনা কার্যকরে সব জেলা পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শুধু নিছক অভিযান নয়, বিহার সরকার পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাকেই প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে। আইন বাস্তবায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও নিয়েছে বিহার সরকার। রাজ্যের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইটিএমএস) বসানো হচ্ছে। এআইচালিত ক্যামেরা রিয়েল-টাইম ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে গাড়ির স্টিকার ও নম্বর প্লেট পর্যবেক্ষণ করবে। নিয়ম ভাঙলে সরাসরি গাড়ির মালিকের কাছে ই-চালান পাঠানো হবে। এ ছাড়া ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গকারী ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। প্রথম ধাপে পাটনা, গয়া, ভাগলপুর, মুজফফরপুর ও দ্বারভাঙাসহ কয়েকটি শহরে এক হাজারের বেশি ক্যামেরা বসানো হবে। পুরো ব্যবস্থাটি একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে পরিচালিত হবে। ৪২টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ভারতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে, গাড়িতে জাতিগত পরিচয় তুলে ধরার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। বিহার সরকারের মতে, এই ধরনের প্রদর্শন অনেক সময় সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিভেদকে উসকে দেয়। পাশাপাশি এটি ট্রাফিক আইনেরও পরিপন্থী। নিতীশ কুমারের সরকারের এই পদক্ষেপ সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক আইনকে আরও স্বচ্ছ করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা।