রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। গতকাল বুধবার ভোরের এ হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ জন। একই সঙ্গে একাধিক আবাসন ও অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, কিয়েভের সাতটি স্থানে একযোগে আঘাত হানে রুশ বাহিনী। এ সময় শহরজুড়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সাইরেন ও সতর্কতা জারি ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছের একটি গুদাম ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেনএমন আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের দাবি, শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও মার্কিন-নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রসদ সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব কেন্দ্র বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুদ ও সরবরাহের পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযান উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিল। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী হামলার সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়নি। টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলা হয়েছে, রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় রাশিয়া ১১৫টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে ৯৮টি প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। কিয়েভের কর্মকর্তারা জানান, এই ইউনিটের আওতায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে। ইউক্রেনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আন্দ্রি চেরনিয়াক বলেন, রাশিয়া পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোরোনেঝ অঞ্চলে নিজেদের ১১২তম ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের অধীনে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৯০ সদস্যের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। চেরনিয়াকের দাবি, পিয়ংইয়ং ইতিমধ্যে নতুন করে ৪০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।
ইউক্রেন বর্তমানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার তৈরি অসংখ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট সরাসরি রাশিয়ায় মোতায়েনের ঘটনা মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে উত্তর কোরিয়ার সদস্যরা ঠিক কী ভূমিকা পালন করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রব লি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক সহায়তা ইউক্রেনের জন্য বড় হুমকি। তিনি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা যত বাড়বে, চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে।
