শিশুর কৃমি রোগ

ডা. শামীমা নাজনীন

সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিশেষজ্ঞ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে ১ জন কৃমি রোগে আক্রান্ত হয়। শিশুর কৃমি আক্রান্ত হওয়া এবং চিকিৎসা নিয়ে অনেক ধরনের বিভ্রান্তি আছে।

কীভাবে আক্রান্ত হয়?

শিশুরা সাধারণত অপরিষ্কার পরিবেশ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে কৃমিতে আক্রান্ত হয়। মাটিতে খেলা করার পর হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া, নখ বড় রাখা, অপরিষ্কার পানি পান কিংবা খোলা খাবার খেলে কৃমির ডিম সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া ঠিকমতো রান্না না করা খাবার, অপরিষ্কার ফলমূল ও সবজি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ হয়। অনেক সময় খালি পায়ে হাঁটার কারণেও কিছু ধরনের কৃমি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

কৃমির লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন?

পেট ব্যথা, বদহজম, বমি-বমি ভাব কিংবা পাতলা পায়খানা হয়। অনেকেই অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। বিশেষ করে বক্রকৃমিতে আক্রান্ত হলে; এগুলো রক্ত খায়, এক একটা বক্রকৃমি একেকদিনে প্রায় ১ থেকে ৪ সিসি রক্ত চুষে নিতে পারে। একজনের পেটে একই সঙ্গে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার কৃমি থাকতে পারে। পায়খানা বা বমির সঙ্গে অনেক সময় আস্ত কৃমি বেরিয়ে আসার আশঙ্কা থাকে।

ওষুধ কত দিন পর দেবেন?

শিশুর যখন ১ বছর হবে তখন প্রতি ৬ মাস পরপর তাকে কৃমির ওষুধ দেওয়া যাবে। আর  শিশুকে কৃমির ওষুধ শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যেকোনো ঋতুতেই খাওয়ানো যায়। শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কৃমির ওষুধ খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃমির চিকিৎসা কী?

শিশুর জন্য কৃমির প্রতিরোধ চিকিৎসাই জরুরি। পায়খানার পরে বা খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। নিয়মিত নখ কাটা। শাক-সবজি, ফলমূল এবং সালাদ জাতীয় খাবার, খাওয়ার আগে হাত ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধ্ুেয় নেওয়া। যেখানে-সেখানে পায়খানা না করা। শিশু যাতে অপরিষ্কার ও নোংরা জায়গায় খালি পায়ে না হাঁটে। ডাক্তার সাধারণত শিশুকে মেবেন্ডাজোল, পাইরেন্টাল প্যামোয়েট, পাইপেরাজিন, লিভামিসল ইত্যাদি ওষুধ দিয়ে থাকেন।