শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড়

নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে পুরনো একটি প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুবছর বাড়াতে চায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার সেল। ‘টিএ ফর স্ট্রেনদেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব সাসটেইনেবল পাওয়ার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে নতুন করে ৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয়ের অর্থ চাওয়া হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতে আজ কমিশনে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা রয়েছে। জানা গেছে, প্রকল্পটি ১২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রথম সংশোধনিতে ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয় এবং এক বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়।

তবে শেষ সময়ে এসে নতুন করে আবারও প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেখানে আবারও ৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকায়। জানা গেছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন করা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী ও মাতারবাড়ি অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভব্যতা সমীক্ষা, জামালপুর চরাঞ্চলে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যয়নসহ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভব্যতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে ছিল। একইসঙ্গে দেশের বর্জ্য থেকে জ¦ালানি উৎপাদন উন্নয়নবিষয়ক সম্ভব্যতা যাচাই করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ধারণ, ব্যবহার ও সংরক্ষণ (সিসিইউএস) ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্যতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়ভাবে ছাদের উপর সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি ও সরকারি জমিতে সৌর প্রকল্পের জন্য কার্বন ক্রেডিট নগদায়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বৈশ্বিক কার্বন বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পরামর্শক সেবার জন্য সমন্বিত কার্যপরিধি প্রস্তুত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ সভায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সম্মতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হতে পারে।