একসময় নির্মূল ঘোষণা করা প্রাণঘাতী রোগ হাম আবারও বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। টিকাদানের হার কমে যাওয়া, ভ্যাকসিনবিরোধী মনোভাব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার তহবিল সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালে হাম নির্মূলের ঘোষণা দিলেও এখন দেশটিতে সংক্রমণ আবার বাড়ছে। কানাডা ইতিমধ্যেই তার নির্মূলের স্বীকৃতি হারিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোও ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৯৫ হাজার মানুষ এই রোগে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক—একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। রোগটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও টিকাদান কাভারেজ ৯৫ শতাংশের নিচে নামলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৩ সালে এর টিকা আবিষ্কারের পর কয়েক দশক ধরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ, কঙ্গো (ডিআরসি) এবং পাকিস্তানে এটি আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকে টিকা চালুর আগে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ২৬ লাখ মানুষ এই রোগে মারা যেত। পরবর্তীতে এমএমআর টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ফলে বহু দেশে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ মহামারি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ, ভুয়া তথ্য এবং ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ বৃদ্ধির কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ধস নামে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে শিশুদের টিকাদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় 'পকেট অব সাসসেপটিবিলিটি' তৈরি হচ্ছে, যা বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে তহবিল কমানো এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতায় পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্লোবাল টিকাদান কর্মসূচিগুলোও অর্থ সংকটে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, টিকাদান কাভারেজ না বাড়ালে হাম আরও বিস্তৃত আকারে ফিরে আসতে পারে। তবে পর্যাপ্ত টিকা ও জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকলে এই রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।