বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে ভারতের কাঁটাতার দেওয়া পুরনো ইস্যু হলেও সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার প্রথম দিনই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না।
সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন আর ডর (ভয়) দেখানোর মতো জায়গা নেই। দেখুন, যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশ সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না।’
সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে করা এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উক্ত মন্তব্য করেন।
সীমান্তে কাঁটাতার ইস্যুটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনা হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে যেখানে কথা বলা দরকার, বাংলাদেশ সরকার বলবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য বহু প্রচারণামূলক কথা বলা হয়। কিন্তু কেন্দ্রে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের ব্যাপারটা আলাদা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরেকটু সময় নেবে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচারণামূলক কথা আর সরকারের কথা এক নয়। আমাদের সম্পর্কটা প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই থাকবে। এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) আমরা তাদের ভেতরের রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি।’
হুমায়ুন কবির বলেন, সীমান্তে অনেক মানুষ হত্যা করা হয়, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেখা গেছে। একই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে তৈরি করা হলে বাংলাদেশ সরকারের ‘পরিকল্পনা আছে কী করতে হবে’। এ বিষয়ে বিস্তারিত না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হবে না।
প্রতিবেশী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, এমন আশাবাদের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সংলাপ চায়।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসিনা ‘পালিয়ে’ এখন ভারতে আছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভারত থেকে তাকে যেন সুযোগ দেওয়া না হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, ভারত সরকারের কাছ থেকে, তারা তাকে ওই সুযোগ (স্পেস) দেবে না।’
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তবে দুই দেশের নেতৃত্বের মানসিকতা হতে হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।
হুমায়ুন কবির বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার দুয়ার খোলা আছে, সমস্যার সমাধানের সুযোগ আছে। কিছু ইস্যু দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে; আবার কিছু ইস্যু সমাধানে সময় লাগবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির চুক্তি সই করা সহজ হতে পারে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভারতের কেন্দ্রে নিকট অতীতে বিজেপি সরকারের সময় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার থাকায় তাদের মতামত নেওয়া লাগতো। এখন তৃণমূল কংগ্রেস নেই। কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গে সরকার একই দলের। এ দিক থেকে তিস্তা চুক্তি সইয়ের বিষয়টি কম চ্যালেঞ্জিং হ্ওয়ার কথা। বিষয়টি ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, সময়ও কথা বলবে।’