সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের হলদিঘর গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিক (৬০) নামের এক মুদিদোকানিকে পুলিশ আটক করেছে। অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিক হলদিঘর গ্রামের মৃত ছেকেন প্রামানিকের ছেলে। ওই মাদ্রসা সংলগ্ন তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। সোমবার(১১ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রের পরিবার জানায়, শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইনিয়নের হলদিঘর তালিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নাজেরা শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিহাবতে (১০) গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের কাছে রেখে দেন ওই মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল। এদিন রাতেই মাওলানা সোহেলের নানা মারা যাওয়ায় তিনি মাদ্রাসা থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার সময় মুদি দোকানী শামসুল প্রামানিককে শিহাবের কাছে রেখে যান। পরে রাতে সামসুল প্রামানিক জোরপূর্বক ওই ছাত্রকে বলাৎকার করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সামসুল নিজ বাড়িতে চলে যায়।
পরে শিক্ষার্থী তার বাড়িতে গেলে মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ের দাগ এবং নখের আচর দেখে শিহাবের বাবা তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় শিহাব তার বাবাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে স্থানীয়রা এ বিষয়ে শালিস বৈঠক বসলেও কোন সমাধান না হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা সূর্য মিয়া শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযাগ দেন। সোমবার(১১ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হলদিঘর তালিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আমার এক আত্মীয় মারা যান। আমি তার জানাজার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় মাদ্রসার ওই শিশু শিক্ষার্থীর কাছে শামসুল প্রামানিককে রেখে যাই। পরদিন ফিরে এসে শামসুল প্রামানিক এবং নাজেরা বিভাগের ওই শিক্ষার্থীকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা শুনতে পাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।