কাবা শরিফের ভেতরে যা রয়েছে

মক্কার মসজিদে হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কাবা শরিফের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে কাবার অভ্যন্তরের বেশকিছু স্থিরচিত্র সামনে আসে।

ঐতিহাসিক বর্ণনা ও আলোকচিত্রের ভিত্তিতে এর ভেতরে তিনটি কাঠের স্তম্ভ, ক্যালিগ্রাফি খচিত দেয়াল এবং সংস্কারের ফলকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

কাবার অভ্যন্তরে দেখা যায়, এর ছাদকে ধারণ করার জন্য সারিবদ্ধভাবে তিনটি অত্যন্ত মজবুত কাঠের স্তম্ভ রয়েছে, যা উন্নতমানের টিক কাঠ দিয়ে নির্মিত।

এই স্তম্ভগুলোর ওপরের অংশে ধাতব রিং বসানো হয়েছে। পুরো মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ সাদা ও ধূসর মার্বেল পাথরে আবৃত, যা এক নিরবচ্ছিন্ন শীতলতা ও পবিত্রতার আবহ তৈরি করে।

দেয়ালের উপরের অংশে পবিত্র কোরআনের ক্যালিগ্রাফি খচিত প্যানেল রয়েছে এবং ভেতরের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে মার্বেল ফলক বসানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন যুগে কাবার বড় ধরনের সংস্কারকাজ সম্পন্নকারী খলিফা বা বাদশাহদের নাম খোদাই করা আছে।

কাবার ভেতরের এক পাশে একটি বিশেষ প্রবেশপথ রয়েছে, যা ছাদে ওঠার সিঁড়িঘরের সাথে যুক্ত, এটি মূলত গিলাফ পরিবর্তন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেছিলেন। আর এর ভেতরে যেকোনো দিকে মুখ করে নামাজ পড়া যায়। 

পবিত্র এই স্থানের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ ও নবী মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ধৌতকরণ প্রক্রিয়ায় উন্নত মানের সুরভি ও উদ ব্যবহার করা হয়। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরের সকল মূর্তি অপসারণ করেছিলেন, ফলে বর্তমানে সেখানে কোনো ছবি, মূর্তি বা কবরের অস্তিত্ব নেই।

অত্যন্ত সরল ও সংযত এই পরিবেশ পবিত্র কাবাকে অনন্য এক আধ্যাত্মিক মহিমায় ভাস্বর করে রেখেছে।