বরিশালের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে হঠাৎ করেই গতকাল সোমবার বিভাগীয় শহরের একাধিক সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল, নবনির্মিত শিশু হাসপাতাল, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতাল ঘুরে দেখেন তিনি। রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়ে খোঁজ নেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতিও যাচাই করেন। পরে মন্ত্রী জানান, আগামী আগস্টের মধ্যেই শিশু হাসপাতাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন মন্ত্রী। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় টেকনিশিয়ান কাম টিকিট কালেক্টর জসীম মাতুব্বরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও একজন কর্মচারীকে কক্সবাজারে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা মোটামুটি সেবায় সন্তুষ্ট। ডাক্তার ও নার্সদের উপস্থিতিও পেয়েছি। তবে কিছু অপরিচ্ছন্নতা আছে। বিশেষ করে বাথরুম নোংরা পেয়েছি। এগুলো দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
নবনির্মিত শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন অপারেশনাল প্রস্তুতির পালা। কী কী যন্ত্রপাতি, জনবল ও অন্যান্য সুবিধা লাগবে তার তালিকা নিয়েছি। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরব। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এসে হাসপাতালটির উদ্বোধন করতে।’
তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা শেষ হবে এবং আগস্টের মধ্যেই শিশু হাসপাতাল চালুর আশা করা হচ্ছে।
নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, ভবনের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে। এরপর প্রয়োজনীয় ফান্ড ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে হাসপাতালটি চালু করা হবে। শিশু হাসপাতাল ও ক্যানসার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং যন্ত্রপাতির তালিকাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে সংকটের জন্য সাবেক সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ হয়নি। অনেক প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে। এখন আমরা নতুনভাবে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
হামের প্রকোপ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে এবং আরও এক কোটি ২০ লাখ টিকা দেশে আসছে। বরিশালকে ইতিমধ্যে শতভাগ টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিকা দেওয়ার পর শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।’
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যা যা প্রয়োজন, তা সরবরাহ করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। বর্তমানে দেশে ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন ডাক্তার রয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগ দিচ্ছি। আগামী বছর আরও নিয়োগ দেওয়া হবে।’
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পাবলিক হেলথ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।