গহনা বাহার চোকার

ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি কথা বেশ প্রচলিত ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’। অর্থাৎ, যা একসময় জনপ্রিয় ছিল, তা ঘুরেফিরে আবার নতুনরূপে ফিরে আসে। নব্বইয়ের দশকের সেই জনপ্রিয় অলংকার ‘চোকার’ আবারও তরুণীদের গলার শোভা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্টার্ন ড্রেস হোক কিংবা দেশি শাড়ি গলার সঙ্গে সেঁটে থাকা এই ছোট্ট অনুষঙ্গ সাজে শোভা বর্ধন করছে।

চোকারের বহুমুখী বৈচিত্র্য

নব্বইয়ের দশকে প্লাস্টিকের ‘ট্যাটু চোকার’ কিশোরীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। আর বর্তমানে, ২০২৪-২৫ এর ফ্যাশন ট্রেন্ডে চোকার ফিরেছে আরও আধুনিক ও শৈল্পিক আঙ্গিকে। বাজারে এখন উপকরণের ভিন্নতা ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের চোকার পাওয়া যাচ্ছে। আপনার আলমারিতে থাকা পোশাকের সঙ্গে মানানসই চোকার বেছে নিতে পারেন নিচের তালিকা থেকে:

ভেলভেট ও রিবন চোকার : টিনএজার এবং তরুণীদের কাছে জনপ্রিয়। কালো ভেলভেটের চিকন ফিতার মাঝখানে একটি ছোট হার্ট বা পাথরের লকেট ক্যাজুয়াল জিন্স বা টপসের সঙ্গে এটি এক নিমিষেই চেহারায় ‘গথিক’ বা ‘বোহেমিয়ান’ লুক এনে দেয়।

অক্সিডাইজড ও মেটাল চোকার : দেশি সাজের জন্য অক্সিডাইজড রুপার চোকার এখন তুঙ্গে। সুতি শাড়ি, কুর্তি বা কামিজের সঙ্গে এই ধাতব গয়নাগুলো আভিজাত্য প্রকাশ করে। বিশেষ করে জয়পুরী ডিজাইনের চোকার মেয়েদের প্রথম পছন্দ।

মুক্তা ও পাথরের আভিজাত্য : বিয়েবাড়ি বা জমকালো অনুষ্ঠানে শাড়ির সঙ্গে মুক্তা বা কুন্দনের ভারী চোকার রাজকীয় ভাব ফুটিয়ে তোলে। চওড়া পাথরের চোকার যখন গলার হাড়ের ওপর স্থির হয়ে থাকে, তখন আলাদা করে কানের বড় দুল বা অন্য গয়নার প্রয়োজন পড়ে না।

কাপড় বা সুতোর চোকার : যারা মেটাল বা ধাতব গয়নায় অ্যালার্জি অনুভব করেন, তাদের জন্য কাপড়ের বা সুতোর কারুকাজ করা চোকারগুলো আশীর্বাদ স্বরূপ। কামিজের হাতা বা গলার কাজের সঙ্গে মিলিয়ে এখন অনেক বুটিক হাউজ কাপড় ও পুতির চোকার তৈরি করছে।

গড়ন বুঝে চোকার

সব ধরনের চোকার সবার জন্য নয়। যাদের গলা লম্বা ও সরু, তারা অনায়াসেই চওড়া বা কয়েক স্তরের চোকার পরতে পারেন। এটি আপনার গলার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেবে। যাদের গলা কিছুটা ছোট বা চওড়া, তারা খুব চওড়া চোকার এড়িয়ে চলুন। এর বদলে চিকন চেইন বা লকেটযুক্ত সরু চোকার পরলে গলা দেখতে লম্বা ও সিøম দেখাবে। মুখম-ল ভরাট হলে খুব বেশি কারুকাজ করা চোকারের চেয়ে সিম্পল মেটাল চোকার বেছে নিন। এতে সাজে ভারসাম্য থাকবে।

খেয়াল রাখুন

আপনি যদি গলায় খুব ভারী বা চওড়া চোকার পরেন, তবে কানে ছোট টপ বা স্টাড পরুন। এতে সবটুকু মনোযোগ আপনার গলার কারুকাজেই আটকে থাকবে। বড় কানফুলের সঙ্গে ভারী চোকার পরলে সাজ হিজিবিজি মনে হতে পারে। চোকার পরার সময় পোশাকের নেকলাইন বা গলার কাটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘অফ শোল্ডার’, ‘ভি-নেক’ বা ‘বোট নেক’ ড্রেসের সঙ্গে চোকার সবচেয়ে ভালো মানায়। কলার দেওয়া শার্টের সঙ্গে চিকন মেটাল চোকার পরে আপনি করপোরেট লুকেও আনতে পারেন নতুনত্ব। চোকার মানেই গলার সঙ্গে লেগে থাকা গয়না। তাই কেনার সময় খেয়াল রাখুন যেন খুব বেশি টাইট না হয়। ঘাড় নাড়াতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে ফ্যাশন আর আরামদায়ক থাকে না।

যত্ন ও সংরক্ষণ

চোকার যেহেতু সরাসরি চামড়ার ঘামের সংস্পর্শে থাকে, তাই এর যত্ন নিতে হবে একটু আলাদাভাবে। ব্যবহারের পর নরম টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে বক্সে রাখুন। পারফিউম বা বডি স্প্রে সরাসরি গয়নার ওপর ব্যবহার করবেন না। পাথরের চোকারগুলো আলাদা কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখুন যেন একটির ঘষায় অন্যটি নষ্ট না হয়।