শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায় আর কী আচরণ করা যায় না, তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন শ্যামল আতিক
শিশুকে ভালো স্পর্শ ও মন্দ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করুন। মন্দ স্পর্শের শিকার হলে শিশু যেন চিৎকার দেয় অথবা দ্রুত বাড়িতে এসে মা-বাবাকে জানায়, এই কৌশলগুলো তাকে শিখিয়ে দিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাছের মানুষ দ্বারাই কন্যাশিশুরা মন্দ স্পর্শের শিকার হয়। তাই অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব আত্মীয় বা পরিচিতজন দ্বারা শিশু মন্দ স্পর্শের শিকার হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
কন্যাশিশুকে একা প্রতিবেশীর বাসায় পাঠাবেন না। রাতে অনিরাপদ কারও কাছে ঘুমাতে দেবেন না। হোক সে পুরুষ অথবা মহিলা। অপরিচিত কেউ যদি তাকে চকোলেট বা বিস্কুট দিতে চায়, সে যেন তা গ্রহণ না করে এই বিষয়টি শিখিয়ে দিন। ছোটবেলা থেকেই শিশুকে লজ্জাস্থান সম্পর্কে ধারণা দিন। বস্ত্রহীন বা নগ্ন অবস্থায় কারও সামনে যাওয়া ঠিক নয় এই বিষয়টি শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। ছোট কন্যাশিশুরা যত কম প্রসাধন সামগ্রী বা কসমেটিকস ব্যবহার করবে তত ভালো। কারণ প্রসাধন সামগ্রীর রাসায়নিক উপাদান শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ছেলেসন্তানের অভাববোধ থেকে কিছু অভিভাবক কন্যাশিশুকে ছেলেদের বেশভূষায় লালন করেন। ছেলেদের মতো করে চুল ছেঁটে দেন, ছেলেদের পোশাক পরান। এর ফলে শিশু পরিচয় সংকটে ভুগতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে শিশুকে বারবার সতর্ক করবে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে সামান্য ভুল জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ছেলেশিশুদের তুলনায় সমবয়সী মেনে শিশুরা মানসিক পরিপক্বতায় কিছুটা এগিয়ে থাকে। তাই ছেলেবন্ধু যখন কোনো পরামর্শ বা প্রস্তাব দেবে, কন্যাশিশু যেন এটা যাচাই-বাছাই করে।
মাসিক বা রজঃস্রাব সম্পর্কে কন্যাশিশুকে স্পষ্টভাবে বলুন। আপনার কাছ থেকে সঠিক তথ্য না পেলে শিশু তার বন্ধুবান্ধব বা অন্য কোনো উৎস থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে পারে। ছেলেকে ছেলের মতো, মেয়েকে মেয়ের মতোই লালন করুন। ছেলে বা মেয়েদের প্রকৃতিসিদ্ধ জগৎ থেকে আলাদা না করাই ভালো।
যদি মেয়েশিশুকে ছেলের মতো অথবা ছেলেশিশুকে মেয়েশিশুর মতো করে লালন করেন, ভবিষ্যতে এই শিশুদের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিশুর সামনে (বয়সের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন) রোমান্টিক গান-ছায়াছবি-নাটক দেখা ও শোনা থেকে বিরত থাকুন। পরিণত বয়সের আগে এসব কনটেন্ট দেখার ফলে শিশুর মনোজগতে অহেতুক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
ছোট কন্যাশিশুকে বার্বি ডল জাতীয় পুতুল না দেওয়াই ভালো। এ ধরনের পুতুলের আকৃতি ও গড়ন শিশুর অবচেতন মনে যথেষ্ট ছাপ ফেলতে পারে। এ ধরনের পুতুলের দৈহিক গড়নকে শিশু আদর্শ মনে করে নিজে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে।