অপ্রদর্শিত আয়ের উৎস বন্ধ করার জন্য নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিএফআইইউ কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনসহ বিএফআইইউর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য প্রদান করেন।
সভায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী রিয়েল এস্টেট খাতের রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব, করণীয় ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেশের আবাসন খাতকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে পরিণত করতে রিহ্যাব সবসময় সরকারের আইন ও নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বিএফআইইউর সঙ্গে সমন্বয় করে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল করতে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।’
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন অনুযায়ী রিপোর্টিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ করে তুলতে রিহ্যাব ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।’
সভায় উপস্থিত রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের অন্য নেতারাও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এ বিষয়ে দুদক, এনবিআরসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বিএফআইইউ কর্মকর্তারা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স, রিপোর্টিং প্রক্রিয়া, গ্রাহক যাচাইকরণ (কেওয়াইসি) এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়াও সভায় রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এএফএম. ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, এজেডএম. কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, এম ফখরুল ইসলাম এবং মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন।