মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপটা কীভাবে রাঙাবে ক্রোয়েশিয়া

যুগোস্লোভিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। আর প্রথম অংশগ্রহণেই তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল ফুটবলের আসল রোমাঞ্চ। ‘কিংবদন্তি’ দাভর সুকারের অবিশ্বাস্য গোলক্ষুধা আর দলের অদম্য সাহসে তারা জার্মানিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে। অভিষেক আসরেই তৃতীয় স্থান অর্জন করা ক্রোয়েশিয়া তখন থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা কোনো ছোট দল নয়, বরং বিশ্বফুটবলের এক নতুন পরাশক্তি।

পরবর্তী আসরগুলোতে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও ২০১৮ সালে রাশিয়ায় ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দল এক নতুন মহাকাব্য লেখে। লুকা মদ্রিচের জাদুকরী পাসিং আর ইভান রাকিতিচ-পেরিসিচদের লড়াকু মনোভাব তাদের প্রথমবারের মতো নিয়ে যায় বিশ্বকাপের ফাইনালে। উরুগুয়ের পর ক্রোয়েশিয়াই জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়ে। যদিও ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হারতে হয়, কিন্তু তারা বিশ্ববাসীর ভালোবাসা জিতেছিল ঠিকই। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তারা মরক্কোকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে প্রমাণ করেছে, ২০১৮-এর সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না।

দালিচ ম্যাজিক ও নকআউট বিশেষজ্ঞ

২০১৭ সালে যখন জøাতকো দালিচ দায়িত্ব নেন, ক্রোয়েশিয়া তখন বেশ টালমাটাল অবস্থায় ছিল। কিন্তু দালিচ দলকে বানিয়েছেন ‘নকআউট বিশেষজ্ঞ’। বিশেষ করে পেনাল্টি শুট আউটে ক্রোয়েশিয়ার দক্ষতা এখন প্রবাদে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপে ৪ বার পেনাল্টি শুট-আউটে অংশ নিয়ে ৪ বারই জয়ের রেকর্ড কেবল তাদেরই আছে। দালিচের আক্রমণাত্মক এবং একইসঙ্গে ঠান্ডা মাথার কৌশলই ক্রোয়েশিয়াকে বারবার বড় মঞ্চে সাফল্য এনে দিয়েছে।

মূল ভরসা মদ্রিচ ও গার্দিওল

৪০ বছর বয়সেও ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের ‘মায়েস্ত্রো’ লুকা মদ্রিচ। এটিই সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে, তাই অধরা ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখার শেষ সুযোগ লুকার সামনে। তবে কেবল মদ্রিচ নন, রক্ষণভাগে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গার্দিওল আছেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। মাঝমাঠে মাতেও কোভাচিচ এবং আক্রমণের শুরুতে আন্দ্রে ক্রামারিচরাই হবেন ক্রোয়েশিয়ার তুরুপের তাস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রোয়েশিয়া সবসময়ই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’। বড় দলগুলোকে মাটিতে নামিয়ে আনার এক সহজাত ক্ষমতা আছে তাদের। বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জয় পাওয়া এই দলটি এবারও অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।