বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে লবণের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত হলেও, বাংলাদেশে গড়ে একজন ব্যক্তি প্রতিদিন প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করছেন। যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। সম্প্রতি বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে লবণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, মাত্রাতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি করছে। আর এই উচ্চ রক্তচাপই বর্তমানে অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত। এর মধ্যে এককভাবে হৃদরোগের কারণে মারা যাচ্ছে ৩৪ শতাংশ মানুষ। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, এসব রোগে মৃতদের ৫১ শতাংশই অকাল মৃত্যুর শিকার।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞগণ রান্নায় বা খাবারের টেবিলে লবণের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, লবণের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক ভেষজ ও মসলা যেমন- আদা, রসুন, গোলমরিচ, ধনেপাতা, দারুচিনি এবং লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে খাবারের স্বাদও বজায় থাকে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও শিল্প পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, স্কুল-হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্যাকেটজাত খাদ্যের গায়ে 'উচ্চ লবণ' যুক্ত লেবেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে এই বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকাল মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।