জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অপব্যবহারের ফলে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নতি, অগ্রগতি ও বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কারণে আমরা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক জীবন থেকে ছিটকে পড়েছি এবং অতিমাত্রায় কৃত্রিম জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। যুক্তরাষ্ট্রের চাষিরা প্রতি বছর ৩ কোটি ৬০ লাখ গরু প্রতিপালন করে। এসব গরুর ৯৯ শতাংশই খাদ্য হিসেবে জোগান দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড হরমোন ব্যবহারের মাধ্যমে, পশুর বয়োবৃদ্ধি ঘটানো হয়। এ ছাড়া স্টেরয়েডের মাধ্যমে অধিকাংশ পোলট্রি ও শূকরকে মোটা-তাজা করা এবং ওজন বাড়ানো হয়। ক্রীড়াবিদরা যেমন টেস্টোস্টেরন বা সমগোত্রীয় উপাদান দিয়ে পেশি গঠন করে, তেমনি চাষিরাও পেশি গঠনের সহায়ক অ্যানড্রোজেন জাতীয় স্টেরয়েড ব্যবহার করে, পশুর পেশি গঠনের মাধ্যমে বয়োবৃদ্ধি ও ওজন বাড়ায়। ফেডারেল আইন মোতাবেক, সব স্টেরয়েড হরমোন প্রেসক্রিপশন ড্রাগ। তার মানে, এসব স্টেরয়েড প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় না। অথচ গবাদি পশুর ওপর স্টেরয়েড ড্রাগ প্রয়োগে কোনো আইনগত বাধানিষেধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছয় প্রকার অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গবাদিপশু ও পোলট্রির ওপর প্রয়োগ করা হয়। এগুলো হলো ইস্ট্রাডায়ল, টেস্টোস্টেরন, প্রোজেস্টেরন, ইসট্রোজেন, অ্যানড্রোজেন ট্রেনবোলন অ্যাসিটেড ও প্রোজেস্টিন মেলেঙ্গেস্টেরল অ্যাসিটেড। এর মানে হলো কেউ যদি হরমোনসমৃদ্ধ গরু, শূকর ও মুরগির মাংস খায় এবং দুধ পান করে, তবে এসব ক্ষতিকর হরমোন পরোক্ষভাবে মানুষের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। হরমোনসমৃদ্ধ মাংস এবং দুধ খেলে মানুষের শরীরের বাড়তি হরমোন প্রবেশের কারণে, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হরমোনমাত্রায় তারতম্যের সৃষ্টি হয়। কারণ শরীর এমনিতেই এসব হরমোন পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রস্তুত করে।
বাড়তি হরমোন গ্রহণের কারণে শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্করা, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। শিশুদের শরীর এমনিতেই বয়সের কারণে ছোট থাকে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে। বাড়ন্ত শরীরে খাদ্য থেকে প্রাপ্ত সামান্য পরিমাণ হরমোন শরীরে ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একজন আট বছর বয়স্ক শিশু যদি একদিনে স্টেরয়েডসমৃদ্ধ মাংস দ্বারা প্রস্তুত দুটি হ্যামবার্গার খায়, তবে তার শরীরে হরমোনের মাত্রা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। এটাকে অত্যন্ত রক্ষণশীল হিসাব বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে। মনে রাখা দরকার, শিশুদের শরীরে অত্যন্ত অল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক হরমোন থাকে। ক্যানসার প্রিভেনশন কোয়ালিশন বাবা-মায়েদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মাংসে সামান্য পরিমাণ হরমোনের উপস্থিতি শিশুদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। যেকোনো পরিমাণের হরমোন শিশুদের জন্য অনিরাপদ। কারণ একটি ধাতব মুদ্রার সমান মাংসে, কোটি কোটি হরমোন অণু থাকে। স্টেরয়েড হরমোন দ্বারা প্রতিপালিত গরুর মাংস খেলে, শিশুদের মস্তিষ্ক ও যৌনাঙ্গ গঠনে বিপত্তি হতে পারে। হরমোনসমৃদ্ধ মাংসের প্রভাবের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গরুর বয়োবৃদ্ধি ও পেশি গঠনের জন্য ব্যবহৃত ইসট্রোজেন, অ্যানড্রোজেন ও অ্যান্টিঅ্যানড্রোজেনের প্রভাবে শিশুর বাড়ন্ত শরীরের কোনো কোনো অঙ্গ, অন্যান্য অঙ্গের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালে পুয়ের্তোরিকোতে পরিচালিত এক জরিপে দেখানো হয়েছে, মহিলা যৌন হরমোন দিয়ে প্রতিপালিত গবাদি পশুর মাংস খাওয়ার পর, হাজার হাজার শিশুর ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও পরিপূর্ণতা লাভের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিশুর ওভারিতে যন্ত্রণাদায়ক সিস্ট উৎপন্ন হয়েছে। হরমোনসমৃদ্ধ এসব মাংস খাওয়ার কারণে পশ্চিমা বিশ্বে ৮ বছর বয়সেই অধিকাংশ মেয়েরা প্রজনন ক্ষমতা বা সন্তান ধারণের সক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। নিয়মিত হরমোনসমৃদ্ধ মাংস খেলে ছেলেদের মধ্যেও অল্প বয়সে যৌন বাসনার উদ্রেগ হয় ও তাদের স্তন মেয়েদের মতো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাংসের মাধ্যমে স্টেরয়েড গ্রহণ, বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। স্টেরয়েডের সবচেয়ে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, উচ্চরক্তচাপ, এলডিএলের মাত্রা বৃদ্ধি, এইচডিএলের মাত্রা হ্রাস, ইশকিমিয়া, মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, হার্ট ফেলিয়ার, স্ট্রোক, অস্টিওপোরোসিস, প্রোস্টেটগ্ল্যান্ড ও স্তনের আকার বৃদ্ধি ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস। এসব স্টেরয়েড হরমোন শরীরের প্রাকৃতিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতায় অস্থিশীলতা ডেকে আনে এবং ক্যানসার সৃষ্টি ছাড়াও লিভার ও কিডনি ধ্বংস করতে পারে।
ভয়ংকর হচ্ছে, গবাদিপশুর মলমূত্রের মাধ্যমে এসব হরমোন পরিবেশে ফিরে আসে, যা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মানবদেহে ঢুকে পুনরায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। ১৯৪০ সাল থেকে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ, প্রতিকারে অ্যান্টিবায়োটিক নাটকীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ৭৫ বছর ধরে কোটি কোটি মানুষকে সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করেছে যে অ্যান্টিবায়োটিক, সেটি এখন মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স চিকিৎসা-বিজ্ঞানের এতদিনের সাফল্য ও অগ্রগতির ধারাকে রোধ ও ম্লান করে দিতে চলেছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টার চিকিৎসক ও রোগীদের যুক্তিসঙ্গতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে চলেছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রীত ৮০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় গবাদিপশুর মাংস ও পোলট্রি উৎপাদনে। অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যবান গবাদিপশুর ওপর প্রয়োগ করা হয় বয়োবৃদ্ধি ঘটানোর জন্য। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্য ব্যবহৃত হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকা গবাদিপশু ও পোলট্রির সংক্রামক রোগ নিরাময়ের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এসব গবাদিপশু ও পোলট্রির ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিক কি এমন সুপারবাগ (জীবাণু যার বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়) নামের দানব সৃষ্টি করছে, যা মানবসভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোক্তা সংগঠনগুলোর অভিমত হলো- গবাদিপশু ও পোলট্রিতে ব্যাপকমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মহাবিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন ও ওয়ার্ল্ড অ্যানিম্যাল হেলথ অর্গানাইজেশন কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন, গবেষকদের হাতে পরিষ্কার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, গবাদিপশু ও পোলট্রিতে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে সৃষ্ট রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু জনস্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি সৃষ্টি করে। এসব ক্ষতির মধ্যে রয়েছে মৃত্যুসহ সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যর্থ হয়ে যাওয়া এবং সংক্রামক রোগের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়া। ২০১০ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্যদানকালে বলছে, মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং মানুষের সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস বা লুপ্ত হওয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সিডিসির পরিচালক ড. থোমাস ফ্রিডেন দৃঢ়ভাবে বলেন, মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং মানুষের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মধ্য গভীর সম্পর্কের অকাঠ্য তথ্য প্রমাণ রয়েছে।
২০১২ সালে এফডিএ প্রকাশ করে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে জীবাণুর বিবর্তন প্রক্রিয়ার সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যার ফলে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল জীবাণুর চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটে। ফলশ্রুতিতে এসব রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর কারণে মানুষের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি সংবেদনশীল জীবাণুর চেয়ে অনেকগুণ বাড়ে। ১৯৯৫ সাল থেকে পোলট্রি উৎপাদনে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত ২০ শতাংশ মুরগির বুকের মাংসে সিপ্রোফ্লক্সাসিন রেজিস্ট্যান্ট সংক্রামক রোগ সৃষ্টিকারী ক্যামপ্লোব্যাকটার জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৫ সালে এফডিএ মুরগি উৎপাদনে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সক্ষম হয়। ওষুধটি বন্ধ হওয়ার পর ২০১০ সাল নাগাদ সিপ্রোফ্লক্সাসিন রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর উপস্থিতি ১৩ শতাংশে নেমে আসে। এর সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। যখন কোনো পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়, তখন পশুর মধ্যে জীবাণুর একাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করে। কিন্তু বাকি অংশ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল না হওয়ার কারণে, বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকে এবং বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এসব জীবাণুকে আমরা বলে থাকি ‘সুপারবাগ’। এই মারণঘাতী সুপারবাগের বিস্তার ঘটলে, ব্যাপকহারে মানুষ অসুস্থ হওয়া ছাড়াও মৃত্যুবরণ করতে পারে। ২০১১ সালে ঠিক এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সালমোনেলা জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত টার্কি মোরগের মাংস খেয়ে, হঠাৎ করে ১৩৬ জন মানুষ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় এবং একজনের মারা যান। অ্যামপিসিলিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, জেন্টামাইসিনসহ আরও কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক এই সালমোনেলা জীবাণুর বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড টার্কি মোরগ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। অন্য এক ঘটনায় সালমোনেলা জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত গরুর মাংস খেয়ে ১৯ জন মানুষ আক্রান্ত হয়। এই সালমোনেলার বিরুদ্ধে অ্যামোক্সিসিলিন, ক্ল্যাভুলেনিক অ্যাসিড, অ্যামপিসিলিন, সেপ্ট্রিয়াক্সন, সেফোক্সিটিন, কেনামাইসিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন ও সালফিসোক্সাজল অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করেনি। গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদনে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রচ- ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঝুঁকি বিশেষ কোনো অঞ্চল বা দেশের জন্য নয়, সারা বিশে^র জন্য।
বিশ্বায়নের যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিস্তার কোনো সীমানা মানছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো যেমন গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদনে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে, তেমনি বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো একই ক্ষতিকর ওষুধের মাধ্যমে মাংস উৎপাদন করছে। আর আমরা সেই মাংস প্রতিনিয়ত খাচ্ছি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছি। মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে যে সুপারবাগের সৃষ্টি হচ্ছে তা এক সময় মহামারী আকারে সারাবিশে^ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মানবসভ্যতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এফডিএ ও বিশে^র ভোক্তা সংগঠনগুলো গত ত্রিশ বছর ধরে গবাদিপশু ও পোলট্রিতে, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক একান্ত প্রয়োজন না হলে ব্যবহার না করার জোর তদবির চালাচ্ছে। ভোক্তা সংগঠনগুলো মনে করে, মাংস উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য তথা মানবসভ্যতাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশেও স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদিত হচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সরকার ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে অনতিবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা। আসন্ন ঈদে যারা কোরবানির পশু কিনতে আগ্রহী তাদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, গবাদিপশু কেনার ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করুন। মনে রাখবেন, মোটা-তাজা ও আকর্ষণীয় পশু মানে স্বাস্থ্যকর পশু নয়।
লেখক: অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাবেক অধ্যাপক ও ডিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়