আস্থা ভোটে বিজয়ের বাজিমাত

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় রাজ্য বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ভোটে জয় পেয়েছেন। তার দল টিভিকে-র বিধায়কসহ মোট ১৪৪ জন বিধায়ক তার পক্ষে সমর্থন দেন। গতকাল বুধবার রাজ্যটির বিধানসভার ভোটাভুটিতে বিজয়ের সরকারের পক্ষে সমর্থন দেন ১৪৪ জন বিধায়ক, বিপক্ষে ভোট দেন ২২ জন আর ভোটদানে বিরত ছিলেন পাঁচজন। আস্থা ভোটের তরী পার হওয়ার জন্য বিজয়ের দরকার ছিল ১১৮ বিধায়কের সমর্থন। বিধানসভায় এআইএডিএমকের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার পর বিজয়ের পক্ষে সমর্থনের সংখ্যা বেড়ে যায়। এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাদি পালানিস্বামী আস্থা ভোটের বিরোধিতা করে বলেন, তার দলের সব ৪৭ জন বিধায়ক টিভিকে-র বিপক্ষে অবস্থান নেবেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এসপি ভেলুমানির নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তাকে ভুল প্রমাণ করে বিজয়কে সমর্থন দেন। ভেলুমানি একদিন আগেই বিজয়ের প্রতি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এআইএডিএমকের ২১ জন সংসদ সদস্য অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের দলকে সমর্থন দেবে।

আস্থা ভোটে জয় বিজয়ের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে এসেছে। গত ৪ মে ফল ঘোষণার সময় দলটি ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অল্পের জন্য পিছিয়ে ছিল। কয়েক দিনের অনিশ্চয়তার পর গভর্নর আরভি আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজয়। নিয়ম অনুযায়ী, শপথ নেওয়ার পর বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হতো। বিজয় যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন, তার মধ্যে তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবং বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর ভোটে অংশ নিতে অযোগ্য হওয়ায় টিভিকে-র সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৫-এ।

আস্থা ভোটে টিভিকে সহজেই জয় পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, তার সরকার অবশ্যই ‘ধর্মনিরপেক্ষভাবে’ পরিচালিত হবে। বিজয় বলেন, এই সরকার ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতিতে জড়াবে না এবং ঘোড়ার গতিতে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, আগের সব কল্যাণমূলক প্রকল্প তার সরকারের অধীনেও চালু থাকবে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, আস্থা ভোটের আগে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) ৫৯ জন বিধায়ক। তামিলনাড়ুর বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিন টিভিকে-কে কটাক্ষ করে বলেন, ছোট দলগুলো শুধু এই কারণে তাদের সমর্থন দিয়েছে যে তারা রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হোক, তা চায়নি।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে বিপাকে কংগ্রেস : কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) নিরঙ্কুশ জয় পেলেও নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে কংগ্রেসে এখন তিনটি শক্তিশালী পক্ষ- কে সি ভেনুগোপাল, ভি ডি সতীশন ও রমেশ চেন্নিথালা। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত মঙ্গলবার দিল্লিতে সাবেক রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাহুল গান্ধী। তবে এরই মধ্যে কেরালাজুড়ে ভেনুগোপাল-বিরোধী পোস্টার এবং গান্ধী পরিবারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি সংঘাতের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেরালা জেলা কংগ্রেস কমিটির কার্যালয়ের সামনে রহস্যময় সব পোস্টার দেখা গেছে। শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে নামা ভেনুগোপালের বিরোধিতা করে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে লক্ষ্য করে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে।

নির্বাচনী জয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে ভি ডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালাকে দেখা হলেও ভেনুগোপাল গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।