আড়াই বছরেই ২০ কোটির ট্র্যাক হারাচ্ছে স্বকীয়তা!

আড়াই বছরও হয়নি ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে নতুন অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক বসানো। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক ট্র্যাক এখনই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্টেডিয়ামের উত্তর দিকে মশাল গেটের দিকে ট্র্যাকের একটি স্থানে ফুটো দেখা দেওয়ায় সেখানে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে ট্র্যাকের নিচের স্তর ফুলে যেতে পারে এবং একসময় এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজন কিংবা অনুশীলনের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে।

২০০৬ সালে প্রথমবার জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছিল। ১০ বছরের গ্যারান্টি থাকলেও সময়ের আগেই ট্র্যাক নষ্ট হতে শুরু করে। ওই ট্র্যাকের ওপরেই জাতীয় আসর গড়াত। এতে অনেক অ্যাথলেট আহত হতেন। ক’বছর আগে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের সময় নতুন ট্র্যাকও বসানো হয়। ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১৯ কোটি ৪২ লাখ ২১ টাকা ব্যয়ে নতুন ট্র্যাকটি স্থাপন করে দি মডার্ন বিল্ডার্স ইন্টারন্যাশনাল। দুই দিন পরই তারা ট্র্যাকটি বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু আড়াই বছর না যেতেই ট্র্যাকের একটি অংশে ফুটো দেখা গেছে। কে বা কারা এটা করেছে তা বলতে পারছেন না কেউই।   

সাবেক অ্যাথলেট, জাতীয় স্টেডিয়ামের সাবেক প্রশাসক এবং মাঠ ও ট্র্যাক বিশেষজ্ঞ মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক সাধারণত বহুস্তরবিশিষ্ট প্রযুক্তিতে তৈরি হয়। ওপরের রাবারাইজড স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৃষ্টির পানি বা আর্দ্রতা নিচে ঢুকে পড়ে। এতে ট্র্যাকের বেস লেয়ার দুর্বল হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ফেটে ওঠা, ফুলে যাওয়া কিংবা পৃষ্ঠ অসমান হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। একবার এই ক্ষয় শুরু হলে পুরো ট্র্যাকের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে কমে যায়। এখন বৃষ্টি মৌসুমেতো আরও ভয়ানক অবস্থা হতে পারে।’

ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এত বড় বিনিয়োগের পরও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং মাঠ ব্যবহারে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ট্র্যাকের এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের ট্র্যাক রক্ষায় সাধারণত ভারী যানবাহন, অননুমোদিত জুতা কিংবা অতিরিক্ত ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই মানদ- ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেই অনেকে মনে করছেন।

বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য এই ট্র্যাক ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অবকাঠামো। দেশীয় প্রতিযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এই উন্নয়নের মাধ্যমে। কিন্তু অল্প সময়েই ট্র্যাকের ক্ষতি হওয়ায় হতাশ হয়েছেন অ্যাথলেট, কোচ ও সংগঠকেরা। তাদের দাবি, দ্রুত কারিগরি পরীক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। নইলে কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প খুব দ্রুতই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তবে ট্র্যাকের এই ছিদ্র ঠিক করার জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠি দিয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের কথা, ‘আগামী ১৭-১৯ মে এই ট্র্যাকেই আমাদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্প্রিন্টারদের কথা ভেবেই আমরা ক্রীড়া পরিষদের সংস্কারের চিঠি দিয়েছি।’