বিলেতের রাজনীতিতে সূচিত হলো গর্বের এক নতুন অধ্যায়। লন্ডনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বারা কাউন্সিল- টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যামের নেতৃত্বের আসনে এখন দুইজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুখ। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয় এবং পরদিন শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এই অর্জন প্রমাণ করেছে যে, পরিশ্রম, সততা আর যোগ্যতা থাকলে প্রবাসের মাটিতেও বাংলাদেশিরা সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে। এটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাঙালি কমিউনিটির জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা ও গর্বের।
লন্ডনে মোট ৩২টি বারা কাউন্সিল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫টিতে জনগণের সরাসরি ভোটে ‘নির্বাহী মেয়র’ নির্বাচিত হন, যাদের হাতে প্রকৃত প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতা থাকে। বাকি কাউন্সিলগুলো মূলত শিরোমণিয়াল। অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলো, এই ৫টি শক্তিশালী পদের মধ্যে ২টিতেই জয়ী হয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এবং সিলেটের কৃতি সন্তানরা।
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন লুৎফুর রহমান। নিজের দল ‘আসপায়ার পার্টি’ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলামের (১৯,৪৫৪ ভোট) চেয়ে ১৬,২২৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। এই নির্বাচনে গ্রীন পার্টির হিরা খান ১৯,২২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
প্রতিবেশী বারা কাউন্সিল নিউহ্যামে প্রথমবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি, যিনি মূলধারার রাজনৈতিক দল (লেবার পার্টি) থেকে সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ২৫,৫৩৮ ভোট, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মির্জা পেয়েছেন ২০,২৩৪ ভোট।
রাজনীতির পাশাপাশি ফরহাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় সেবার মান উন্নয়ন, কমিউনিটি সম্প্রীতি এবং তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। জয়লাভের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিজয় পুরো কমিউনিটির। তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, লুৎফুর রহমানের অভিজ্ঞতা এবং ফরহাদ হোসেনের এই নতুন মাইলফলক যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করবে।