কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের তপৈয়া গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি নড়বড়ে খুপরি। দূর থেকে দেখলেই বোঝা যায়, সামান্য ঝড়েই সেটি ভেঙে পড়তে পারে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই স্ত্রী ও দুই ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী মো. হানিফ।
বয়সের ভার আর নানা রোগে আক্রান্ত হানিফ এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দিনমজুরির কাজ জুটলেও শরীর সায় দেয় না। একদিন কাজ না করলে পরিবারকে থাকতে হয় উপোস। আয়ের নির্দিষ্ট কোনো পথ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারেই কাটছে তাদের দিন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তপৈয়া গ্রামের একটি ছোট্ট খুপরিতে বাস করছেন হানিফ দম্পতি। ঘরের বাঁশের খুঁটিগুলো পচে গেছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘর ভেঙে পড়ার শঙ্কা। ঘরের ভেতরে একটি খাট, কিছু পুরোনো কাপড় আর রান্নার সামান্য জিনিসপত্র ছাড়া তেমন কিছুই নেই।
হানিফের স্ত্রী বিলকিস বেগমও অসুস্থ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। তারপরও দুই শিশুসন্তান—চার বছরের ইউছুফ ও ছয় বছর বয়সী ইসমাঈলকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার সামলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. হানিফ বলেন, ২০ বছর আগে আমার প্রথম স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করি। প্রথম সংসারের এক মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। তারা সবাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। কেউ আমার খবর নেয় না।
তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় নিজের সব জমিজমা বলতে তেমন কিছুই ছিলো না। ছেলেরা বড় হয়ে দিনমজুরের কাজ করে ৩শতক জায়গা ক্রয় করে আলাদা বাড়ি করে রয়েছে। পরে দ্বিতীয় সংসার শুরু করলে সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এখন তার দেখভাল করার মতো কেউ নেই।
হানিফ বলেন, আমার ছেলেমেয়েরাও গরিব। কেউ দিনমজুরি করে, কেউ গাছ কাটার কাজ করে সংসার চালায়। তারা নিজেরাই কষ্টে আছে, আমাকে কী দেবে?
দ্বিতীয় স্ত্রী বিলকিস বেগমকে বিয়ে করে তিনিও এক শতক জমির ওপর কোনোভাবে খুপরি ঘরটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেটিও এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই পুরো ঘরে পানি পড়ে। এমন রাতে নির্ঘুম কাটে তাদের।
এ বিষয়ে বিলকিস বেগম বলেন, বৃষ্টি আসলে বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয় লাগে। ঘরের চারপাশ দিয়ে পানি পড়ে। অনেক রাত জেগে থাকতে হয়।
স্থানীয় গ্রাম্য সরদার মাসুদুর রহমান বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। এলাকাবাসী মিলে যতটুকু পারি সহায়তা করি। সরকারি সহায়তা পেলে তাদের জন্য নতুন একটি ঘর তৈরি করা সম্ভব।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানান তিনি।