‘পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রেমেডিয়াল শিক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা 

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁয়ের পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত  হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে সেভ দ্য চিলড্রেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। 

অনুষ্ঠানে  প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। আমরা জানি এবং মানি আমাদের শিখন ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী, প্রাথমিকের অর্ধেক শিক্ষার্থীই মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে। আমি অন্তত ২৫টি স্কুলে ঘুরে দেখেছি দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। শিখন ঘাটতি পূরণে আপনারা সকলে যে যেভাবে পারেন সহযোগিতা করবেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করা। বাস্তবতা হলো অনেক শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও সেই শ্রেণীর উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে এটা সত্য, আমরা তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রাথমিককে এমনভাবে তৈরি করবো যাতে তারা আবার ফিরে আসে। যেকোন ধরনের প্রাথমিকের স্কুলকে আমরা একই সরলরেখায় আনতে চাই যাতে সরকারি হোক বেসরকারি হোক শিক্ষার্থী যেখানে যাবে সেখানেই যেন মানসম্মত শিক্ষাটা পায়। শিক্ষকদের আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠাবো এখন থেকে। রেমিডিয়াল শিক্ষায় আপনারা যে যে ফাইন্ডিংস পেয়েছেন আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে সুপারিশগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো।

এর আগে সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন কুমার দাশ। এরপর রেমিডিয়াল শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ: পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও অভিজ্ঞতার পর্যালোচনাবিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর এডুকেশন লিড শাহীন ইসলাম, সিনিয়র ম্যানেজার-এডুকেশন তাহসিনা তাইমুর এবং অধ্যাপক মুরশিদ আখতার। তারা বলেন, ইসিই প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝূঁকিপূর্ণ পরিবারের শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি। গবেষণায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত প্রতিকারমূলক (রেমিডিয়াল) শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি, শিক্ষক দক্ষতা, অভিভাবক সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সহায়ক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দৈনিক রেমেডিয়াল ক্লাস, টিচার লার্নিং সার্কেল, অভিভাবক সভা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়া ও গণিত দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং শিক্ষকদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণও বেড়েছে। গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে যে, শেখার ঘাটতিকে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে নির্ধারিত রেমিডিয়াল সময় চালু, সরকারিভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণে রেমেডিয়াল পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত, টিচার লার্নিং সার্কেলকে জাতীয় সিপিডি ব্যবস্থার অংশ করা, সহায়ক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিল মেম্বার এবং চলপড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা জেরিন মাহমুদ হোসেন এফসিএ, সেভ দ্য চিলড্রেন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশন এর গোধূলী ইউএলসি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সোহানা। এছাড়া উন্মুক্ত বিভিন্ন অংশীজনরাও তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। 

আলোচনা সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার দেড় শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।