কবিতা

কয়েদি ও কালপুরুষ

কালপুরুষের কথা হয় শুধু কয়েদির সাথে।
এতটা জীবন পার করে এতদিনে বুঝি তার
মুখোমুখি হওয়া গেল—এই পউষের শেষরাতে
বালুচরে মৌন জেলখানার ঘুমন্ত জানালায়।

অথচ আকাশ ছিল অবারিত—দৃষ্টির অধিক,
রাত্রি ছিল আদিগন্ত। দিনের উজ্জ্বল শব্দকণা
স্ফুলিঙ্গের মতো হয়ে ফুটেছিল শূন্যে, দশদিক—
সুবচন ভাবনার পাশে নির্বচন সব তারা।

জবান খোলেনি কারও, হয়নি সময় এতদিন।
এবার কি ভাষা পেলে, বিঁধে নিলে তিরের ফলায়—
যে মৃগদানব মানুষের কণ্ঠ করে রাখে ক্ষীণ,
বোবাপাহাড়ের ধারে অন্তরীণ—গুমোট হাওয়ায়?

এখানে ঘুমন্ত জানালায় মৃদু আলো-ইশারাতে
যত কথা হয়—প্রহরীর দীর্ঘশ্বাস লাগে তাতে।