চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলি

চোখে গুলিবিদ্ধ সেই রেশমি মারা গেল

বাঁচানো গেল না চোখে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমি আক্তারকে (১১)। মাথায় গুলি নিয়ে সাত দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিল সে। সেখানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রেশমির মাথায় আটকে থাকা গুলিটি বের করলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল। তাই চিকিৎসকরা রেশমির অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘সাত দিন ধরে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। গুলিটি তার চোখ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় গুলিটি বের করা যায়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।’

এর আগে গত ৭ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরের রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয় রেশমি। পুলিশ জানায়, বিহারি কলোনিতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিল হাসান রাজু নামের রাউজানের এক বাসিন্দা। মাস্ক পরা পাঁচ-ছয়জনের একটি সশস্ত্র দল কলোনিতে ঢুকে রাজুকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে থাকে। দৌড়ে পালানোর একপর্যায়ে রাজু মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় পাশে থাকা শিশু রেশমি। ঘটনার রাতে মায়ের জন্য স্থানীয় দোকানে পান আনতে গিয়েছিল রেশমি। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই রেশমিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সে মারা যায়।

সর্বশেষ গত শনিবার তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, রেশমির বাম চোখ দিয়ে গুলিটি মাথার ভেতরে প্রবেশ করে। তার মাথার পেছনের অংশে গুলিটি আটকে ছিল। এটি তার মস্তিষ্ক ছেদ করে গেছে। যার কারণে সেটি সরাতে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল। তাই মেডিকেল বোর্ড রেশমির অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই ঘটনায় নিহত রাজুর মায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর রেশমি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গত শনিবার তার মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। রেশমি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রেশমি ছিল সবার ছোট।