জাতিসংঘকে ১৮০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মানবিক কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই অর্থায়নের ফলে মানবিক সহায়তাকর্মীরা বিশ্বের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিতে সক্ষম হবেন।  

টম ফ্লেচার জানান, নিরপেক্ষতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের আওতায় ১৮টি সংকটাপন্ন অঞ্চলে এই সহায়তা ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে দুই কোটির বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সহায়তার ৯০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষদের জন্য। চলতি বছরে জাতিসংঘের ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ফ্লেচার আরও বলেন, সীমিত সম্পদ, বাড়তে থাকা চাপ এবং সহায়তাকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে এটি মানবিক কর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের সক্ষমতা তারা প্রমাণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে মাইক ওয়াল্টজ বলেন, এই অর্থায়নের সুফল শুধু বিশ্বজুড়ে আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করবে না, বরং কার্যকারিতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমকেও এগিয়ে নেবে।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের শত শত বিলিয়ন ডলারের সহায়তার মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উদার দেশগুলোর একটি হিসেবে রয়েছে। ওয়াল্টজ আরও বলেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এমন জটিলতা কমানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, চলতি বছর জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিয়মিত বাজেট কমানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে এমন অভিযোগও নাকচ করেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করব, প্রতিটি ডলারের বড় অংশ যেন প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছেই পৌঁছায়।'