বিশ্বকাপ খেলার ‘যোগ্যতা প্রমাণের বয়সে নেই' বিরাট কোহলি

টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ইতোমধ্যে বিদায় জানিয়েছেন। তবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা এখনও আছে বিরাট কোহলির। কিন্তু কোনো ক্রিকেটীয় সেট-আপে যদি তাকে বারবার নিজের যোগ্যতা বা দলের প্রতি নিজের নিবেদন প্রমাণ করতে হয়, তবে তেমন জায়গায় থাকতে মোটেও রাজি নন এই কিংবদন্তি ব্যাটার।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) একটি পডকাস্টে কথা বলার সময় কোহলি এমন এক কর্মক্ষেত্রের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন যেখানে মানুষ মুখে বিশ্বাসের কথা বলে, আর এক সপ্তাহ পরেই কাজের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কোনো নির্দিষ্ট বোর্ড বা ম্যানেজমেন্টের নাম না নিলেও ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে একদম খোলামেলা কথা বলেছেন।

বর্তমানে ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, "আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন, আমি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলতে চাই কি না। অবশ্যই আমি যদি খেলি, তবে ক্রিকেটটা চালিয়ে যেতেই খেলব। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনুভূতি দুর্দান্ত। কিন্তু আমার দৃষ্টিভঙ্গি এখন পরিষ্কার—আমি যে দলের অংশ, সেখানে যদি অবদান রাখতে পারি এবং দলও যদি মনে করে আমার মূল্য আছে, তবেই আমাকে দেখা যাবে। কিন্তু আমাকে যদি এটা বোঝানো হয় যে আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে, তবে আমি সেই বৃত্তে নেই।"

কোহলি আরও যোগ করেন, তিনি নিজের প্রস্তুতি এবং খেলার প্রতি সবসময় শতভাগ সৎ। তিনি বলেন, "আমি কঠোর পরিশ্রম করি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ওয়ানডে ম্যাচে যদি আমাকে ৪০ ওভার বাউন্ডারি লাইনে দৌড়াতে বলা হয়, আমি কোনো অভিযোগ ছাড়াই তা করব, কারণ আমি নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করি। প্রতিটি বলকে ক্যারিয়ারের শেষ বল মনে করে ফিল্ডিং করি। এরপরও যদি আমাকে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, তবে বুঝতে হবে সেই জায়গাটি আমার জন্য নয়।"

কোহলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এখন শুধু খেলার আনন্দের জন্য মাঠে নামেন, কাউকে কিছু দেখানোর জন্য নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন "আমি যখন (বিজয় হাজারে ট্রফিতে) খেলতে যাই, মনে মনে একদম পরিষ্কার ছিলাম যে কাউকে কিছু প্রমাণ করতে যাচ্ছি না। আমি খেলছি কারণ আমি খেলাটাকে ভালোবাসি। বেঙ্গালুরুর 'সেন্টার ফর এক্সেলেন্স'-এ তখন দর্শক ছিল না বললেই চলে। প্রথমে ভেবেছিলাম এত বছর খেলার পর এখানে খেলার অনুপ্রেরণা পাব তো? কিন্তু যখনই চিন্তাটা সরালাম, আমি আবার শিশুর মতো আনন্দ পেয়েছি। ডাইভ দিয়ে ফিল্ডিং করেছি। বিষয় স্পষ্ট—কেউ যদি জটিলতা তৈরি করতে চায়, তবে হয় মুখে সরাসরি সত্যিটা বলুন, নয়তো চুপ থাকুন আর আমাকে খেলতে দিন।"

কোহলি মনে করেন, পারফরম্যান্স বা ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বারবার মূল্যায়ন বদলানো উচিত নয়। ম্যানেজমেন্ট বা বাইরের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে এক সপ্তাহে বিশ্বাস আর পরের সপ্তাহে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।

কোহলির ভাষায়, "কোনো ক্ষেত্রেই কেউ পারফরম্যান্সের গ্যারান্টি দিতে পারে না। তবে চেষ্টা আর নিবেদনের গ্যারান্টি আমি দিতে পারি। আমি সিরিজের দুই-তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ কঠোর পরিশ্রম শুরু করি না, সারাবছরই আমার লাইফস্টাইল এমন থাকে। তাই আমি সবসময় প্রস্তুত।"

পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা

কোহলি নিজেকে প্রমাণ করার জায়গায় না থাকলেও, তার সাম্প্রতিক ফর্ম কিন্তু এখনো অতিমানবিক।

  • সাম্প্রতিক ওয়ানডে: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৭টি ওয়ানডে ইনিংসে করেছেন ৩টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ-সেঞ্চুরি।

  • ঘরোয়া ওয়ানডে (বিজয় হাজারে ট্রফি): মাত্র ২ ম্যাচে মাঠে নেমে তার সংগ্রহ ১৩১ ও ৭৭ রান।

  • আইপিএল ২০২৬: চলমান আইপিএলে আরসিবির হয়ে ১২ ইনিংসে ১৬৫.৭৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৪৮৪ রান (১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ-সেঞ্চুরি)। তিনি বর্তমানে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।