আবাহনীর ছয়ে-ছয় বসুন্ধরাও

বেতনের দাবিতে বিদেশি ফুটবলাররা মাঠে নামেননি। তুরুপের তাস ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজই বাজি ছিল বসুন্ধরা কিংসের। সেই বাজিতে তারা জিতেছে। কিংস আবারও প্রমাণ করেছে কেন তারা দেশের ফুটবলের আধিপত্যশীল শক্তি। আবাহনী লিমিটেডকে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ষষ্ঠবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে কিংস।

শুক্রবার কুমিল্লার ভাষাশহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি কার্যত ছিল শিরোপানির্ধারণী ফাইনাল। ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল সহজ, জিতলেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস; আর আবাহনী জিতলে বেঁচে থাকত তাদের আশা। সেই চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে কিংস।

প্রথমার্ধে দুদলই সতর্ক ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় কিংস। ৪৩ মিনিটে আবাহনীর জালে বল ঠেলে দিলেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি কিংসের সোহেল রানা সিনিয়র। বিরতির এই অর্ধে আবাহনীর চেয়ে দারুণ খেলেও গোলশূন্য বিরতিতে যায় কিংস।

 ৬২ মিনিটে এক পরিবর্তন আনে আবাহনী। মিরাজুলের জায়গায় কোচ মারুফুল হক বদলি হিসেবে নামান ব্রুনো মাতোসকে। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার মাঠে নামার পরপরই বেশ কিছু আক্রমণ শানায় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে এমেকার দারুণ ক্রসের নাগাল পাননি ব্রুনো। ৬৬ মিনিটে আরও একবার এমেকার পাসের নাগাল একটুর জন্য পেলেন না ব্রুনো।

৭২ মিনিটে বক্সে ফাহিম ঢুকে পড়লে তাকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু। বাম দিকের টপ কর্নার দিয়ে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন ডরিয়েলটন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লিগের ১৮তম গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। ৭৬ মিনিটে ব্রুনো মাতোসের শট ধরে ফেলেন শ্রাবণ। পরের মিনিটে শিরোপা নিশ্চিত করা গোলটি করলেন কিংসের সোহেল রানা। ছোট সোহেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শট লক্ষ্যভেদ করেন সিনিয়র সোহেল।

 ৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ হয়নি মিতুলের দৃঢ়তায়। ডান দিক দিয়ে উপরে উঠে পোস্টেই শট নেন সাদ উদ্দিন। সেটি আটকে দেন মিতুল, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছোট বক্সের মধ্য থেকে ইমনের শট প্রতিহত হয় আবাহনীর রক্ষণে। ৮৫ মিনিটে এমেকার ডান পায়ের শট বেরিয়ে যায় একটু উপর দিয়ে। গো করা ৮ মিনিটেও আর হার এড়াতে পারেনি আবাহনী। ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে কিংস। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আবাহনী।

বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের জন্মের পর আর কখনো শিরোপা জেতা হয়নি আবাহনীর। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল আবাহনী। এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই রয়ে গেল আকাশি-নীলদের জন্য। আর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের পর থেকেই ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বসুন্ধরা কিংস। টানা পাঁচবার লিগ জিতে তারা গড়েছিল নতুন রেকর্ড। তবে গত মৌসুমে সেই আধিপত্যে ছেদ ফেলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে। এবার সেই ট্রফি উদ্ধার করল কিংস।

 ১৭ ম্যাচশেষে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে আবাহনীর জন্য এটি আরেকটি হতাশার মৌসুম হয়ে থাকল। সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট তাদের। ফেডারেশন কাপ থেকে আগেই বিদায় নেওয়ার পর লিগ শিরোপাই ছিল তাদের শেষ ভরসা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরে সেই স্বপ্নও ভেঙে গেছে আকাশি-নীলদের।

আবার হারল মোহামেডান

একই সময় অন্য চার মাঠে শুরু হয় চারটি ম্যাচ। এর একটিতে রহমতগঞ্জের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে মোহামেডান। রহমতগঞ্জের গোলটি করেন আরনেস্ট বোয়েটাং। ফর্টিজ ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। গোল দুটি করেন মুর্শেদ আলি ও পা বাবা। পুলিশ ২-০ গোলে হারিয়েছে আরামবাগকে। গোলদাতা রাহুল হোসেন রাব্বি ও শামিক কাগিমু। আর পিডব্লিউডি আবু সাঈদের একমাত্র গোলে হারিয়েছে ফকিরেরপুলকে।