ভোটের সাড়ে ৪ বছর পর ইউপি চেয়ারম্যানের শপথ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অবশেষে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামছুজ্জামান জামাল। ইউপি নির্বাচনের প্রায় ৪ বছর ৪ মাস ১৮দিন পর আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে তিনি এ শপথ নেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। পরে সন্ধ্যায় সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে বরণ করে নেন স্থানীয় জনতা ও নেতাকর্মীরা।

শপথ গ্রহণের পর শামছুজ্জামান জামাল বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে, জনগণের ভোটের বিজয় হয়েছে। এই বিজয় আমি জনগণকে উৎসর্গ করলাম।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে জনগণের চাহিদা পূরণে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যক্রম হিসেবে তিনি সহনাটী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. মাহফুজ আহাম্মদের হাতে নাগরিকত্ব সনদপত্র তুলে দেন।

বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল লতিফ এবং সঞ্চালনা করেন ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান রিপন। অনুষ্ঠানে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম লিটন, জুয়েল মিয়া, নিজাম উদ্দীন, আব্দুল কদ্দুস, আবুল কাসেম রতন, মেহেদী হাসান লিটন, কুলসুমা আক্তার, শিরীনা আক্তার, নাসিমা আক্তার, শফিকুল ইসলাম টুলুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল দাবি করেন, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই শপথ গ্রহণ করানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি পান ৬ হাজার ২৭৮ ভোট। অপরদিকে লাঙ্গল প্রতীকের শামছুজ্জামান জামাল পান ৬ হাজার ২৫২ ভোট।

পরবর্তীতে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শামছুজ্জামান জামাল। ভোট পুনর্গণনায় তার পক্ষে ৬ হাজার ২২৪ ভোট এবং সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেলের পক্ষে ৫ হাজার ৯৫৮ ভোট পাওয়া যায়। এরপর আদালত শামছুজ্জামান জামালকে ২৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও উচ্চ আদালত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে শামছুজ্জামান জামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপরই তার শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।