কুমিল্লায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২৫ বছর বয়সী এক বাক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাতে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার শিক্ষক সাব্বির আহমদ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতরী গ্রামের মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার শ্রীহাস্য ছিদ্দিক আলী মোয়াল্লেম শাহ হাফেজিয়া নূরানী মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসায় রান্নার কাজ করতেন। কাজের সুবাদে শিক্ষক সাব্বির আহমদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন সাব্বির। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে ওষুধ সেবন করানো হয়েছে। পরে তরুণীর ইশারায় অভিযুক্ত শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয় এবং ভুক্তভোগী তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তার রিমান্ড আবেদন করা হবে।