চলতি হজ মৌসুমে মসজিদে নববিকে ঘিরে ইসলামি ঐতিহ্যের নানা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে মসজিদে নববির চারপাশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কেন্দ্রে হজযাত্রীদের ভীর বেড়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মহানবি (সা.)-এর জীবন সম্পর্কে দর্শনার্থীদের গভীর জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কালচারাল সেন্টারে নানা আয়োজন করা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে মসজিদে নববি সম্প্রসারণ প্রদর্শনী। এখানে পবিত্র এই মসজিদের ১৪০০ বছরের নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লে, দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শন এবং বিভিন্ন স্থাপত্য মডেলের মাধ্যমে মহানবি (সা.)-এর যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সৌদি আমল পর্যন্ত মসজিদের বিবর্তনের ধারাবাহিক রূপ দেখতে পারছেন।
এর কাছাকাছিই রয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ পরিচালিত মহানবি (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক জাদুঘর। এই প্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি এবং হলোগ্রামের মতো অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহানবি (সা.)-এর জীবনী একাধিক ভাষায় দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়া মসজিদে নববির দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আস সাফিয়্যাহ মিউজিয়াম অ্যান্ড পার্ক’। এই কেন্দ্রটিতে মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির সাহায্যে সৃষ্টির সূচনা এবং হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবি-রাসুলের জীবন কাহিনী প্রদর্শন করা হয়।
মূলত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় স্থানগুলো হজযাত্রীদের জ্ঞান অন্বেষণের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা তাদের পবিত্র হজের সফরের সময় ইসলামি ঐতিহ্যের সাথে আরও গভীরভাবে আত্মিক সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করছে।