বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্যই পরম আরাধ্য স্বপ্ন। সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটি হাতছানি দিচ্ছিল তিউনিসিয়ার উদীয়মান তারকা ফুটবলার লুই বেন ফারহাতকে। কিন্তু এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনায় সেই স্বপ্নপূরণে বাদ সাধলেন খোদ তার বাবা! কোচের ফোনে বাবার দেওয়া এক নির্দেশেই শেষ পর্যন্ত আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হলো এই তরুণ ফুটবলারকে। বাবার এমন সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফারহাতও।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে তিউনিসিয়া ফুটবল দলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তিউনিসিয়ার প্রধান কোচ সাব্রি লামুশির বিশ্বকাপ পরিকল্পনার বেশ বড় একটা অংশ জুড়ে ছিলেন এই উইঙ্গার। কিন্তু শুক্রবার সকালে খেলোয়াড়ের বাবার একটি ফোন কলেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।
এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ লামুশি নিজের ক্ষোভ ও হতাশা লুকিয়ে রাখেননি। তিনি বলেন, "আজ সকালে আমি লুই বেন ফারহাতের বাবার কাছ থেকে একটি ফোন পাই। তিনি আমাকে জানান, ছেলেকে এখনই জাতীয় দলে নেওয়ার সময় হয়নি এবং তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন। আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। লুইকে ফোন করলেও সে ধরেনি। তার বাবাকে আবার ফোন দিলে তিনিও আর সাড়া দেননি। এটি চরম অবমাননাকর। এই অধ্যায় এখানেই শেষ।"
তিউনিসিয়ান গণমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, খেলোয়াড়ের পরিবার ও এজেন্টদের আশঙ্কা—বিশ্বকাপে দলের বা খেলোয়াড়ের কোনো হতাশাজনক পারফরম্যান্স বুন্দেসলিগায় (জার্মান লিগ) তার সম্ভাব্য দলবদলের আলোচনা থমকে দিতে পারে। জার্মানির ক্লাব ‘কার্লসরুহে’র হয়ে দারুণ পারফর্ম করে নজরে আসা বেন ফারহাতের ওপর বর্তমানে বেশ কয়েকটি শীর্ষ জার্মান ক্লাবের নজর রয়েছে। আর সেই বুন্দেসলিগার ট্রান্সফার সুরক্ষিত রাখতেই মূলত বিশ্বকাপকে 'না' বলে দিয়েছেন এই ফুটবলার ও তার পরিবার।
বিশ্বকাপের মতো মহমঞ্চে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত তিউনিসিয়ান ফুটবল সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।