গত নভেম্বরে চীনের সানায়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলের সঙ্গে কোচ কাম ম্যানেজার হিসেবে যাওয়া ফেডারেশনের সদস্য নজির মল্লিকের বিরুদ্ধে এক নারী লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। যদিও পুরো ঘটনাটি এখন পর্যন্ত অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গেমস চলাকালে দায়িত্ব পালনরত এক নারী লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে নজির মল্লিকের আচরণ নিয়ে আপত্তি তোলে চীনের আয়োজক কর্র্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি লিখিতভাবে বিওএকে জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিওএ দ্রুত ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সূত্রটি আরও জানায়, এরই পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম এবং অভিযুক্ত নজির মল্লিককে পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্টদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করারও নির্দেশনা রয়েছে। বিওএও বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে জাতীয় দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে যাওয়া কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের জন্য আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে দায়িত্ব পালনের আগে কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা ওরিয়েন্টেশন বা আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণেরও দাবি উঠেছে।
তবে এই ঘটনাকে ‘সিলি (ছোট্ট)’ বলেই উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা, ‘আসলে খুবই ছোট বিষয়। তাছাড়া লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে থাকা মেয়েরা ইংরেজিও তেমন বুঝে না। হয়তো তারা না বুঝেই বিওএকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে। এ জন্যই সেইফগার্ডিংকে (নিজের সুরক্ষা) নিজেরা গুরুত্ব দিচ্ছে চীন, আমাদেরও গুরুত্ব দিতে বলেছে। তাই আমরা এখন থেকে ডোপ কোর্সের মতো বিদেশে যাওয়ার আগে সবাইকে সেইফগার্ডিং নিয়েও কোর্স করাব।’
ক্রীড়াঙ্গনে এ ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক আসরে দেশের প্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বাংলাদেশের ক্রীড়ার জন্য বিব্রতকর বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা ক্রীড়াঙ্গনের।