অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দল ঘোষণার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ জানায়, বাম পায়ের কাফ মাসলের চোটের কারণে অন্তত প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না লিটন দাস। তাই এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে ছাড়াই প্রথম টেস্টের দল দেন নির্বাচকরা। আগামী ১২ আগস্ট ফিটনেস টেস্ট দেওয়ার কথা ছিল লিটনের। পাস করলে তবেই দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল তার। তবে গত বুধবারের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঠিক করা হয়, দলের সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাবেন লিটন। এজন্য সৌম্য সরকারসহ যে ক্রিকেটাররা আজ রবিবার যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গী হচ্ছেন সম্প্রতি ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া লিটন।
এই বিমানে ওঠার আগে সুখবর পেয়েছেন সাদা বলের দুই সংস্করণের অধিনায়ক। গতকাল বিসিবি আরেকটি সংবাদ বিবৃতিতে জানায়, প্রথম টেস্টের দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে তাকে। যদিও টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম টেস্টের দলে ফিরলেও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন লিটন। বোর্ডের চাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাবেন। ডারউইন টেস্টের একাদশে জায়গা পেতে ১২ আগস্টের ফিটনেস পরীক্ষা কিছুদিন আগেই দেবেন তিনি। এই সূত্রের দাবি, এমন ফিটনেস নিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যান লিটন। তবে শেষ পর্যন্ত আর মাঠে নামতে পারেননি। কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয় তাকে।
এই বিষয়ে জানতে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি। যদিও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানান, দলে ফিরলেও একাদশে জায়গা পেতে ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে লিটনকে। গতকাল মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে নাফীস বলেন, ‘যদি সে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে প্রথম টেস্ট থেকেই তার খেলার সম্ভাবনা আছে। আর যদি না হয়, তাহলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কথা। এই বিবেচনায় বোর্ড, মেডিকেল বিভাগ এবং নির্বাচক প্যানেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তাকে এখন দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সফরে পাঠানো যেতে পারে।’
তবে লিটন ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টেই খেলতে পারবেন বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘লিটনের চোটের উন্নতিটা ভালো হয়েছে। সে এখন খেলার মতো ফিট। খেলার মতো অবস্থায় না থাকলে নিশ্চয়ই মেডিকেল বিভাগ থেকে লিটনকে ছাড়পত্র দিত। আশা করি, প্রথম টেস্টে খেলতে পারবে।’ লিটন প্রথম টেস্টের দলে ফেরায় ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমেছে সফরকারী শিবিরে। এটা ভেবে স্বস্তির ঢেকুর হাবিবুলের কণ্ঠে, ‘স্বস্তি তো অবশ্যই। সে পরীক্ষিত খেলোয়াড়। অমিত (হাসান) জাতীয় দলে খুব বেশি দিন আসেনি, সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অভিষেক হলো। অনেক দিন পর অনিককে (জাকের আলী) আমরা নিয়েছি। কিন্তু লিটনকে প্রয়োজন ছিল। ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা হলেও তো দুশ্চিন্তা কমেছে।’
ঘরের মাঠে সর্বশেষ চার টেস্ট জিতলেও জিম্বাবুয়েতে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। মাত্র আড়াই দিনেই হেরে যান নাজমুল হোসেনরা। সে ম্যাচে লিটনের অনুপস্থিতি ভালোভাবেই টের পেয়েছে সফরকারী দল। লাল বলের ক্রিকেটে বেশ ধারাবাহিক এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে মাত্র ১০ ইনিংসে প্রায় ৫৭ গড়ে ৫৬৮ রান করেছেন তিনি।
এমনিতেই চোটের কারণে অজিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মূল দলের দুই পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম নেই। এর সঙ্গে লিটনের অনুপস্থিতি চিন্তায় ফেলে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে। এই ব্যাটারকে গত ২৬ জুলাই দল ঘোষণার আগে সুস্থ করতে না পারায় শৃঙ্খলা কমিটির কাঠগড়ায় উঠতে হয় মেডিকেল বিভাগকে। গত জুন মাসে পাওয়া চোটে যে এতদিন ভুগতে হবে লিটনকে, সেটা বুঝতে পারেননি তারা।
জুন মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় কাফ মাসলের চোটে পড়েন লিটন। এজন্য টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি। একই কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও দলে ছিলেন না। পরে সুস্থ বোধ করায় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যান। তবে অনুশীলনের সময় অস্বস্তি বোধ করায় কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে আসেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে আরেকবার পরীক্ষা করান। সেখানে চোট ধরা পড়লে পুনর্বাসনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পাননি। তবে বোর্ডের চাওয়ায় নাটকীয়ভাবে আবার ফেরানো হয়েছে তাকে।
এদিকে ডানহাতি গতি তারকা নাহিদকে কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়া সফরে পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। বাঁহাতি পেসার শরিফুল দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পুনর্বাসন চালিয়ে যাচ্ছেন। মেডিকেল বিভাগের ছাড়পত্র পেলে তাকেও প্রথম টেস্টে ফেরানোর আশা হাবিবুলের, ‘শরিফুল বোলিংয়ে ভালো করছে। আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরে পাচ্ছে। যদিও আমরা তাকে মেডিকেল প্রটোকলের জন্য প্রথম টেস্টে রাখতে পারিনি। ছাড়পত্র পেলে তাকেও ফেরাতে পারি।’
