সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন দাদি। দুর্বৃত্তরে হামলায় ওই কিশোরী ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। নিহত নারী হলেন দিলারা বেগম (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল ওই কিশোরী (১৪)। গভীর রাতে চিৎকার শুনে দিলারা বেগম নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে দেখেন তার নাতনিকে একদল লোক জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তখন তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবেশিদের ডাকতে থাকেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে, এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। দুর্বৃত্তদের হামলায় ওই কিশোরী ও তার মাও আহত হয়েছেন।
নিহতের এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত ৩ যুবক দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর সামনেই তার দাদিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এতে কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আহত মা ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিবেশি আলকাছ মিয়া জানান, টিনশেডের ঘরে বৃদ্ধা দিলারা বেগম ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করেন। কয়েক মাস আগে তার ছেলে প্রবাসে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন।
কিশোরীর মা জানান, রাতের বেলা হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে তিনি দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা এবং তার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তখন তিনি বাধা দিলে তার হাতে কামড় দেয় এক দুর্বৃত্ত। এরপর কিশোরীর দাদি এগিয়ে আসলে তাকে ছুরিকাঘাত করে।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।