কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার স্বজনরা জানান, ওই শিক্ষার্থীর বাবা প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। রাতে তাকে ঘরে রেখে বাইরে তালা দিয়ে তার মা ও ভাই রেণু পোনা ধরতে নদীতে যান। রাত দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, তিনজনের নামে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার অভিযোগ : মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সিরাজদীখানে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুর সৎমামা মো. রাজাকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আছিয়া আক্তার ওই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রবাসী আনোয়ারের বাড়িতে তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও সৎ শ্যালক রাজা বসবাস করতেন। শনিবার বিকেলে ঘরের ভেতর আছিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত রাজাকে আটক করে। রাজা বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নান জানান, খবর পেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের সৎ মামাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২৫ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক সাব্বির আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার সাব্বির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতরী গ্রামের মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি নাঙ্গলকোটের শ্রীহাস্য ছিদ্দিক আলী মোয়াল্লেম শাহ হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করতেন। কাজের সুবাদে শিক্ষক সাব্বিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিচয়ের সুযোগে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন সাব্বির। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে ওষুধ সেবন করানো হয়েছে। পরে তরুণীর ইশারায় শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন।