শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সদরের পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেন। এদিকে এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের জন্য সিভিল সার্জন ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন, জসিম কাজী, আব্দুল জলিল কাজী, রবিউল কাজী, জায়েদা বেগম ও আয়েশা মনি।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তার সারা শরীরে আঘাত করা হয়েছে। তবে মাথার আঘাতটা জটিল। হামলার ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ এনে রাত ১টার দিকে লাল মিয়া কাজীর স্বজনরা চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর চড়াও হন। তারা ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে নাসিরের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ, আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী, সদর হাসপাতালের আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার চিকিৎসক নাসিরকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। চিকিৎসক নাসিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসক নাসিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসক নাসির ইসলাম বলেন, লাল মিয়া হার্ট অ্যাটাকের রোগী ছিলেন। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করি। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাকে সকালে ঢাকা নেবে বলে। পরে শুনি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে আমার কী দোষ! আমি তো প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে লোকজন এসে আমাকে একজন পাথর দিয়ে আঘাত করে, অন্যরা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।
আটক সোলাইমান কাজী (আল আমিন) বলেন, আমার মামা চিকিৎসকের অবহেলায় মারা গেছে। কে বা কারা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছে জানি না।