দেশের ব্যাংক খাত ব্যাপক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এ সংকট কাটাতে ব্যবস্থা না নিলে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যাবে না বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, অনেকেই ব্যাংক থেকে জমানো টাকা তুলতে পারছে না। এর সমাধান করতে হবে। গ্রাহক স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করতে হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানী সিরডাপ মিলনায়তনে ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়; প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত : জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত সেমিনারে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের পাশাপাশি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম হায়দার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিজানুর রহমান।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করেছেন। তবে ছয়টি বিষয়ে সবাই একমত। এর (অর্থনীতির) টেকসই সমাধান করতে হবে। সেগুলো হলো ১. অর্থনীতিতে বিপর্যয় হয়েছে; ২. কলুষিত নীতি প্রক্রিয়া অর্থনীতির সংকট ত্বরান্বিত করেছে, যা এখনো চলছে; ৩. আমানতকারীরা নীরবে দুঃখকষ্ট ভোগ করছেন; ৪. অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় আছে, চাকা সচল হয়নি, বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে; ৫. দেশের বড় পরিবর্তনের সংকট সমাধানের সুযোগ হিসেবে এসেছে এবং ৬. এই সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন, নৈতিকতার মানদ-ে যা উচ্চপর্যায়ে থাকতে হবে।
জিল্লুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে। কিন্তু অন্য ব্যাংকগুলোতে যে হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে গেছে, সেগুলোর কী হবে? নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকশ কোটি টাকা আটকে আছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকা আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংক খাত ঠিক হবে না। কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংকগুলোতে যে লুটপাট হয়েছে, তার হিসাব পৃথক করে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে যেতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত হলো অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে লুট হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় হয়, এখন তাই হয়েছে। এখন ব্যাংক দখল নিয়ে যা বের হচ্ছে, তা দিয়ে থ্রিলার সিনেমা হতে পারে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দখল করা ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এখন অনেক ব্যাংকে টাকা তোলার লাইন পড়েছে। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ব্যাংক পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের নতুন ধারা বাতিল করতে হবে।
সেমিনারে ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহক ও পেশাজীবী বক্তব্য দেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দখল করা হয়েছিল। সে জন্য আগে থেকেই পরিবেশ তৈরি করা হয়। তখন সবাই চুপ ছিল। ২ শতাংশ শেয়ার থাকলেই একটি ব্যাংক দখল করা যায়, এটি কেমন সুযোগ। তখনকার গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে সরকারের বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আবার কিছু হলে আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না; এবার গ্রাহকরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।