চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার খালপাড়ে গেলেন চার মন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে খালপাড় দেখতে যান মন্ত্রীরা। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরেই জলাবদ্ধতার কাজ শেষ হবে। তবে এসব প্রকল্পে কেউ লুটপাট করেছে কি না তার তদন্ত করে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তাও খুঁজে বের করা হবে।
গতকাল শনিবার নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে অবশ্যই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কমে আসবে। তবে এ ক্ষেত্রে খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। খালের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হবে।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানও খালপাড় পরিদর্শন করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ, বৃষ্টির পরিমাণ, জোয়ার-ভাটার প্রভাব, সøুইসগেট ব্যবস্থাপনা এবং বঙ্গোপসাগরে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বর্ষা মৌসুমে কিছু কাজ বন্ধ থাকলেও বর্ষার পর দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার বড় ধরনের সমাধান দৃশ্যমান হবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ অতীতে প্রকল্প করা হলেও যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে যে অর্থ প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য। যদিও বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের অবস্থা কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছে। বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আমিন মোহাম্মদ আবদুল্লাহসহ অনেকে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিলের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। এরপরই নগরের দুর্ভোগের জন্য সংসদে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বিষয়টি সুরাহার দায়িত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়ে সেদিনই (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামে আসেন এবং দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে সিটি মেয়রকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি ঘোষণা করেন। সেই কমিটি গত বৃহস্পতিবার মিটিংও করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চার মন্ত্রী পরিদর্শনে এলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আট হাজার ৬২৬ কোটি টাকার প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বহদ্দারহাট থেকে বারইপাড়া পর্যন্ত এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকায় একটি নতুন খাল খননের প্রকল্প রয়েছে। অপরদিকে সিডিএর দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় চাক্তাই থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও সøুইসগেট নির্মাণের আওতায় ১২টি সøুইসগেট রয়েছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরেক প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৫০৮ কোটি টাকায় কর্ণফুলীর মোহনা থেকে উজানে মদুনাঘাট পর্যন্ত ২৩টি সøুইসগেট রয়েছে। এসব সøুইসগেট দিয়ে কর্ণফুলীর জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং এগুলো বর্ষা মৌসুম শেষে সমাপ্ত হওয়ার কথা।